

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি কেন্দ্রে। ভোটের এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি পদত্যাগ করবেন না। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়. তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করব না। কেন করব?’
ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে নয়। কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে, কমিশনের অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি লুট করেছে।’

তৃণমূল হারেনি বলে সাফ জানিয়ে দিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’ নির্বাচন কমিশনকে ‘বায়াসড’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।

নির্বাচনে পরাজয়ের পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্র, বিহারে যা করেছে এখানেও তাই করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা বাঘের মতো সেটা ধরে ফেলেছি। কিন্তু আমরা লড়াই করে ফিরে আসব।’
নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বলে দিলেন, ‘১০০ আসন লুট করেছে।’ একই সঙ্গে তিনি এখন মুক্ত পাখি বলেও জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমি ফ্রি বার্ড।’

গণনার পরেই ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা ফোন করেছিলেন বলে জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ভোটের দু’দিন আগে আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একের পর এক প্রশাসনিক বদল। এমন সন্ত্রাস আমি কোথাও দেখিনি।’
এই রকম নির্বাচন আগে কখনও দেখিনি বলে দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করলেন। ইন্ডিয়া জোটের সমর্থন তাঁর সঙ্গেই রয়েছে দাবি করে মমতা বলেন, ‘সব নেতারা আমাকে ফোন করেছেন। সোনিয়াজি ফোন করেছিলেন, কেজরিওয়াল ফোন করেছিলেন। অখিলেশ আজই আসতে চাইছিলেন, আমি কাল আসতে বললাম।’

একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম আসনে হেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, লোডশেডিং করে তাঁকে হারানো হয়েছে। এ বারও সেই ধারা বজায় রাখলেন তৃণমূলনেত্রী। এবার বিধানসভা ভোটে তাঁর ঘরের আসন ভবানীপুরে ডাহা হেরেছেন তিনি। ১৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে ফের তাঁকে পরাস্ত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেও মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজভবনে যাবেন না।



