Saturday, June 06, 2026 | e-Paper
Desher Samay
HomeARTBANGLADESHBENGALIBUSINESSDISTRICTE PAPEREDITOR'S CHOICEEDITORIALENGLISHENTERTAINMENTFASHION TIMEFeaturedFEATURESHEALTH IS WEALTHINDIAINDIAKOLKATALIVEMAGAZINENEWSOPINIONPHOTO GALLERYPSN Photography CONTESTSPORTSTRAVELOGUEUTTARBANGA উত্তরবঙ্গViral VideoWEST BENGALWORLDYOUTUBE

অশোক’কে ঘিরে উৎসবের মেজাজ বনগাঁয়,মানুষের পাশে না থাকলে দেব দু’ঘা বললেন মন্ত্রীর মা

deshersamay

Share article:

জিতেছিলেন ২০২১ সালেও। জিতেছেন ছাব্বিশেও। মতুয়াগড়ে ফের ফুটিয়েছেন পদ্ম। এসআইআর ইস্যু উঠলেই বারবার ফিরে ফিরে আসে তাঁর নাম। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের বনগাঁ জেলার প্রাক্তন সভাপতি।

বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। এখন পর্যন্ত মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন না হলেও তিনি সম্ভবত কোনও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেতে চলেছেন বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।

বনগাঁর দীনবন্ধু কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হন অশোক। কলেজে পড়ার সময় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। কলেজ জীবনে ছাত্র পরিষদ করতেন। পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

২০০৪ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। সেই থেকে কোনও দিন বিজেপির পতাকা ছাড়েননি। বনগাঁয় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন তৃণমূল নেতারা। তার জন্য অবশ্য তাঁকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। একাধিক ফৌজদারি মামলায় তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কখনও সরে আসেননি। ঠাকুরবাড়ির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তারই পুরস্কার হিসাবে অশোককে মন্ত্রী করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিন খবরটা শোনার পরেই বনগাঁর সাতভাই কালীতলার মন্দিরে পুজো দেন তাঁর স্ত্রী মৌমিতা কীর্তনিয়া। তিনি বলেন, ‘খবরটা শুনে এত আনন্দ লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ওঁকে এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বনগাঁর মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

অশোকের বৃদ্ধা মা অহল্যা কীর্তনিয়া বলেন, ‘আজ তো আমার আনন্দের দিন। ছেলে মন্ত্রী হয়েছে। ছেলেকে বলেছি, তুমি একা জয়ী হওনি। তোমার পিছনে লাখো মানুষ রয়েছে। সবসময় সেই সব মানুষদের পাশে থাকবে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকের আসল বাড়ি বনগাঁর ঘাটবাওড় পঞ্চায়েত এলাকায়। বর্তমানে থাকেন বনগাঁর রামনগরের বাড়িতে। ছোটবেলায় অভাবের মধ্যে দিন কেটেছে। বাবা–মা চাষবাস করে কোনও রকমে সংসার চালাতেন। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। একই বাড়িতে থাকেন অন্য ভাইরা।

অশোকের কথায়, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মন্ত্রী হবো। নাম ঘোষণার পরে খুব আনন্দ পেয়েছি। বিজেপি কর্মীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা রাজ্যের ক্ষমতা পেয়েছি। তাঁদের প্রত্যেককে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। আমার এই জয় আসলে বনগাঁর মানুষের জয়।মতুয়াদের জয়।’
২০২১ সালে প্রথম বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন অশোক। সে বার তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ৪৮৮। এ বারেও দল তাঁর উপরে ভরসা রেখেছিল। এ বার তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসকে মোট ৩৯ হাজার ৮৩৯ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।

শপথ নেওয়ার পরেই এ দিন বিকেলে বনগাঁয় ফেরেন অশোক। প্রথমে নিজের বাড়িতে যান। মাকে প্রণাম করেন। মাথায় হাত রেখে ছেলেকে আশীর্বাদ করেন বৃদ্ধা মা। ততক্ষণে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে অসংখ্য বিজেপি কর্মী–সমর্থক ভিড় করেছেন। সকলেই মন্ত্রীর কাছাকাছি যেতে চান। অশোক কীর্তনিয়া এবং বিজেপি নামে স্লোগান দেন কর্মীরা। এরপরে বনগাঁ পার্টি অফিসের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। ঘরের ছেলে মন্ত্রী হয়েছেন, এই আনন্দে পথচলতি মানুষজনকে মিষ্টিমুখ করান বিজেপি কর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, মতুয়া গড় বলে পরিচিত বনগাঁ মহকুমায় বিজেপির রাজনৈতিক ভিত আরও মজবুত করতেই এলাকার ভূমিপুত্র অশোককে ক্যাবিনেট মন্ত্রী করা হয়েছে।

এসআইআরের সময় অশোক কীর্তনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর চাপানউতোর হয়। কিন্তু মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে যে বিজেপির নজর শুরু থেকেই ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের। এবার মতুয়াদের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা অশোক কীর্তনিয়াকে মন্ত্রী করা অবশ্যই যে মতুয়াদের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

শনিবার সকাল থেকেই বনগাঁর বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। মন্ত্রী হিসেবে অশোক কীর্তনিয়ার নাম ঘোষণা হতেই তাঁরা আনন্দে মেতে ওঠেন। গেরুয়া আবির মেখে খুশির জোয়ারে ভাসলেন সাধারণ বিজেপি কর্মী– সমর্থকরা। উৎসবের পরিবেশ ইছামতির শহর বনগাঁয়।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.