দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ মহামারী আবহে স্বাধীনতা দিবস। তাই রেড রোডে ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসে আধঘণ্টার সীমিত অনুষ্ঠান হল। যা ইতিহাসে প্রথম। এই বিশেষ দিনে চিরাচরিত সব প্রথাই এদিন পালিত হল রেড রোডে। কিন্তু সবই যেন প্রাণহীন। মঞ্চে অতিথি তেমন নেই, দর্শকশূন্য রেড রোড, ট্যাবলো প্রদর্শনও নামমাত্র। সবমিলিয়ে, করোনার আতঙ্ক যেন কেড়ে নিয়েছে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দও।

শনিবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৯.৪৫ নাগাদ রেড রোডে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে তবে মঞ্চে ওঠেন। তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেন কলকাতা পুলিশের অফিসাররা। এরপর ১০টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কলকাতা পুলিশের সংক্ষিপ্ত কুচকাওয়াজ পর্ব। তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা আবহে মাত্র ৪টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয় রাজ্য সরকারের তরফে।
জুলাই মাসের শেষেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এবারের রেড রোডের অনুষ্ঠান হবে একেবারেই ছোট। অন্যবার লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন। এবার সেই সুযোগ নেই। তাঁর আবেদন ছিল, এবার ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা তুলুন।

তারপরই এবারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান অর্থাৎ কোভিড যোদ্ধাদের সংবর্ধনা পর্ব শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী একে একে ২৫ জনের হাতে তুলে দেন সংবর্ধনার উপহার। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, সাফাই কর্মী ও আশা কর্মীরা। তাঁরাও পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণাম জানান। গোটা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরই মাঝে বারবার বেজে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ও সুরে কোভিড জয়ের গান– ‘করোনা চলে যাবে একদিন/ কোভিড যোদ্ধাদের মনে রেখো’। ইন্দ্রনীল রায়, লোপামুদ্রা মিত্রদের গাওয়া ও সুরে তখন সত্যিই যেন অন্য স্বাধীনতার ডাক।
