

বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন । সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রচারের মেগা বাজেট নিয়ে জোর আলোচনা পদ্ম শিবিরে। দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠন-প্রচার মিলিয়ে ২৬ এর ভোটে বাংলায় বিজেপির খরচের মোট অঙ্ক ১ হাজার কোটি ছাপিয়ে যেতে পারে।

তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রচারের আর্থিক ব্যয়ের রাশ রাজ্য নেতৃত্বের হাতে নয়। প্রচার থেকে বুথস্তরের খরচ—সবই নিয়ন্ত্রিত হবে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনে। কোন বিধানসভায় কত টাকা বরাদ্দ, কোথায় কত খরচ—সব কিছুতেই এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ছাপ থাকবে কেন্দ্রের।

এদিকে, ২০ থেকে ২২ নভেম্বর—এই তিন দিনের মধ্যেই শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করতে পারেন বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি । সূত্রের খবর, নতুন কমিটিতে ফিরতে পারেন অনেক পুরনো মুখ। আবার বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়বেন বেশ কয়েকজন।

সায়ন্তন বসু, রীতেশ তেওয়ারি, রাজকমল পাঠক, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়—গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা মিলতে পারে তাঁদের। দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর সংগঠনে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন রাজ্য কমিটির সদস্য সমীরন সাহা।
নির্বাচনের সময় বাংলায় থাকবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রচারের খরচ থেকে সংগঠনের ব্যয়, প্রতিটি খাতে তাঁর অনুমোদন বাধ্যতামূলক। ইতিমধ্যেই ভূপেন্দ্র যাদবকে নির্বাচনী কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সাংগঠনিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল।

যে আসনগুলিকে বিজেপি ‘জয়ের লক্ষ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ, সাধারণ একটি আসনে গড় বরাদ্দ যেখানে প্রায় এক কোটি, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক আসনে খরচ চড়ে যাচ্ছে কয়েকশো কোটি টাকায়।
দলীয় সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সভা, সফর, হেলিকপ্টার, পাঁচতারা হোটেলে শীর্ষ নেতাদের থাকা—এসব খরচ বহন করছে দিল্লি কেন্দ্র থেকেই। ফলে রাজ্য কমিটির বাজেটে এগুলো ধরা হচ্ছে না।

তবে দলের অভ্যন্তরের খবর, ২০২১-এর ভোটে বিজেপির ব্যয় ছিল একশো কোটি টাকার সামান্য বেশি। তার তুলনায় এবার বাজেট কয়েক গুণ। তা সত্ত্বেও দলের ভিতরেই প্রশ্ন উঠছে—এত অর্থ ঢেলে ফল কি মিলবে? কারণ গতবারও বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও ক্ষমতার দোরগোড়া ছুঁতে পারেনি গেরুয়া ব্রিগেড।



