‘এমন কাজ করব ১০০ বছর বাংলায় থাকবে বিজেপি’, প্রথমেই বাংলায় কী কী হবে , নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা শুভেন্দুর

0
4

নন্দীগ্রামে জনজোয়ারে ভাসলেন শুভেন্দু অধিকারী।    শুভেন্দুর নামে নেতাকর্মীদের জয়ধ্বনি। শুভেন্দুকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা। ক্ষমতায় আসার পর এবার বিজেপি কী কী করবে, সেটাই আরও একবার সাংবাদিকদের সামনে পরিস্কার করলেন শুভেন্দু।

আগামী শনিবার রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ১০০ বছর বাংলা শাসন করার হুঙ্কার দিলেন বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী। বললেন, আগামী বছরগুলিতে এমন কাজ করব যে, বিজেপি ১০০ বছর থাকবে।

১. সংকল্পপত্র পূরণ করা হবে।

২. সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে।

৩. নারীদের সুরক্ষিত করা হবে।

৪. নারী নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা। তাঁর কথায়, “মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।”

৫. সরকারি কাজ, বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়বে। শুভেন্দু আশ্বাস দেন,  একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ-নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত বেকার ভাতা।

২০১৬ এবং ২০২১-এর পর ২০২৬ – টানা তিনবার নন্দীগ্রামের  মাটি থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে বুধবার সকালে নিজের খাসতালুকে পা রাখতেই জনজোয়ারে ভাসলেন তিনি। আর সেই আবেগের আবহে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিলেন, আগামী ১০০ বছর বাংলা শাসন করবে বিজেপি। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এমন কাজ করা হবে যাতে রাজ্যে বিজেপির আসন দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এদিন বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষের ঋণ আমি চিরকাল মনে রাখব এবং তা শোধ করবই।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে কোনও একটি আসন ছাড়তে হলেও তিনি সবসময় নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন। তাঁর কথায়, “দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নেব, কিন্তু ভবানীপুর হোক বা নন্দীগ্রাম – আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি।”

গত সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর আসছে। কোথাও মূর্তি ভাঙচুর বা দলীয় কার্যালয় দখলের মতো ঘটনাকে ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, কোনও অবস্থাতেই আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আর্জি, “তৃণমূল বিগত বছরগুলিতে যে অত্যাচার করেছে, আমরা তা ভুলব না। কিন্তু আমরা তাদের মতো কাজ করব না। যারা অন্যায় করেছে, আইনি পথেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই সংযত অথচ আত্মবিশ্বাসী বার্তা আদতে নতুন সরকারের শাসনকাল শুরুর প্রাক্কালে এক বড় ইঙ্গিত। তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন উন্নয়নের জোয়ার আনতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে বিজেপিকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট দেয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের মাটি থেকে একদিকে যেমন তিনি উন্নয়নের জয়গান গাইলেন, তেমনই অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনিক পরিপক্কতার পরিচয় দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই উত্তর এখনও মেলেনি ঠিকই, তবে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যের চালকের আসনে থেকে বাংলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর একমাত্র অঙ্গীকার।

Previous articleবনগাঁ হাইস্কুলে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তের দাবিতে সরব শিক্ষকেরা: দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here