West Bengal Ration Distribution Case: ‘ডাকু’ শঙ্করের ভাই মলয় আঢ্যকেও সিজিও তেডেকে পাঠাল ইডি,না এলে অন্য ব্যবস্থা!
deshersamay
দেশের সময়, কলকাতা: রেশন মামলায় ইতিমধ্যেই বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করেছে ইডি। মঙ্গলবার রেশন মামলার তদন্তে শঙ্কর আঢ্যের ভাই মলয় আঢ্যকেও ডেকে পাঠানো হল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে।

ইডি সূত্রে খবর, শঙ্করের যে সংস্থার হাত ঘুরে রেশন দুর্নীতির কালো টাকা সাদা হত, তার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন মলয়ও। শুধু তা-ই নয়, ইডি জেনেছে, এই মলয়ের নিকট আত্মীয় এক জন মিলমালিক। বনগাঁ এলাকার মিলমালিক কালিদাস সাহার ভাগ্নি তানিয়া আঢ্য মলয়ের স্ত্রী।

রেশন মামলায় মূল অভিযুক্ত রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হত শঙ্করের সংস্থার মাধ্যমে। ইডির তদন্তকারীদের ধারণা, এই টাকার পরিমাণ কম করে ৯-১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে ‘আঢ্য ফোরেক্স’ নামে শঙ্করের একটি বিদেশি মুদ্রা বিনিময় সংস্থা মারফত। মলয় সেই সংস্থারই ডিরেক্টর ছিলেন। মলয়ের স্ত্রী তানিয়ার নাম ছিল শঙ্করের অন্য একটি ফোরেক্স সংস্থা, ‘ত্রিনয়নী ফোরেক্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এ। ‘অঞ্জলি আইসক্রিম প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে শঙ্করের একটি ভুয়ো সংস্থাতেও নাম ছিল মলয় এবং তাঁর স্ত্রী— দু’জনেরই।

রেশন মামলায় ইতিমধ্যেই শঙ্করকে গ্রেফতার করেছে ইডি। মঙ্গলবার মলয়কেও ডেকে পাঠানো হল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। ইডির অনুমান, মন্ত্রী বালু ছাড়া রেশন দুর্নীতির যে ২০ হাজার কোটি টাকা শঙ্করের সংস্থা মারফত পাচার হয়েছে বাংলাদেশ এবং দুবাইয়ে তার মধ্যে মলয়ের আত্মীয় কালিদাসের অর্থও রয়েছে। এ ছাড়া ‘আঢ্য ফোরেক্স’ নিয়েও মলয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে ইডি সূত্রে। সে ক্ষেত্রে মলয় যদি মঙ্গলবার ইডির তলব এড়িয়ে যান, তবে তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে ইডি অন্য ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও জানা গিয়েছে ওই সূত্রে।

শঙ্করের পরিবারের একাধিক সদস্যই ইডির স্ক্যানারে। এর আগে শঙ্কর আঢ্যর মেয়েকে ডেকেছিল ইডি। মেয়ে ঋতুপর্ণা আঢ্য প্রায় ৬ ঘণ্টা ইডির সওয়ালের মুখে পড়েন। তাঁর থেকে ইডি কী কী জানতে চেয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতুপর্ণা বলেছিলেন, আপাতত কিছুই বলতে পারবেন না।

তবে ইডি সূত্রে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শঙ্কর আঢ্যর সম্পত্তি আছে দুবাইয়ে। হাজার কোটি টাকা বিদেশি মুদ্রায় বদল করেছেন বলেও জানতে পেরেছে ইডি। শঙ্কর আঢ্য ও তাঁর আত্মীয়দের নামে বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের অফিসও রয়েছে। সেসব জায়গায় ইতিমধ্যে তল্লাশি চলেছে। এরইমধ্যে এবার মলয়কে তলব ইডির।


