দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ বর্ধমানের সানমার্গ চিটফান্ড মামলায় হালিশহরের পুরপ্রশাসক রাজু সাহানির পর আরও এক জনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতের নাম সঞ্জয় সিংহ।
বর্ধমান সানমার্গের অরগানাইজেশন প্রতারণা মামলায় দুর্গাপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় সিংকে মঙ্গলবার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠায় সিবিআই। সেখানে টানা ১০ ঘণ্টা জেরা করার পর মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করল সিবিআই।
সানমার্গ চিটফান্ড মামলায় এই নিয়ে ৩জনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ২ সেপ্টেম্বর হালিশহর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান রাজু সাহানিকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, সানমার্গের বিপুল পরিমাণ টাকা এসেছিল তৃণমূলের চেয়ারম্যানের কাছে। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ ৮০ লক্ষ টাকা, যার উৎস তিনি বলতে পারেননি। তারপরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসক ও তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়কে। বর্তমানে জামিনে মুক্ত তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ রাজু সাহানির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সঞ্জয় সিংকে বেশকিছু নথিপত্রসহ সিজিও কমপ্লেক্সে ডাকা হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় রাতেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সূত্রের খবর, সঞ্জয় সিংয়ের একাধিক ব্যবসার সঙ্গে সানমার্গ চিটফান্ড সংস্থার যোগ আছে বলে জানা গেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আরও একাধিক নাম উঠে আসতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে ৷
বুধবার সকালে তাকে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আসানসোলে। আদালতে তোলার পর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে সিবিআই, এমনটাই সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই সঞ্জয়। অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে ভোটের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে চান এই সঞ্জয়। নরেন্দ্রনাথ পুলিশের কাছে অভিযোগে লিখেছিলেন, “সম্ভবত শুভেন্দু অধিকারীর (রাজ্যের বিরোধী দলনেতা) হয়ে এই কাজে নামেন সঞ্জয়।” এর পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। গত ১৭ জুলাই এই মামলা করেন তৃণমূল বিধায়ক। দিন কয়েক জেলে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন সঞ্জয়। এ বার তাঁকে চিটফান্ড মামলায় গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের দাবি, সঞ্জয়ও রাজুর ‘ঘনিষ্ঠ’।
এর আগে সানমার্গ চিটফান্ড-কাণ্ডে হালিশহরের পুরপ্রশাসক রাজু সাহানিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাঁকে জেরা করে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য মিলিছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট মামলায় তল্লাশি হয়েছে বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর বাড়িতে। সুবোধের ভাই তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান কমল অধিকারীর বাড়িতেও গিয়েছিল সিবিআই। সুবোধ এবং কমল দু’জনেই হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান রাজু সাহানির ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত।