

হঠাৎই আজ ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে লুকোচুরি খেলার পর নিজেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সামনে হাজির বালিগঞ্জের এই ‘ত্রাস’। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের অবশেষে গ্রেফতার হলেন তিনি। প্রায় ছ’বার হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই অভিযুক্ত। যদিও, সোমবার সকালে তিনি দাবি করেছিলেন কোনও দোষ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত তোলাবাজির একটাও অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।

ED সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতায় জমি দখল, তোলাবাজি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় সোনা পাপ্পুকে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় এর আগে ধৃত কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র মিলেছে।

যদিও জেরার আগে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু দাবি করেছিল, ‘আমি কোনও জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত নই এবং কোনও থানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই।’

তদন্তকারীদের দাবি, কসবা, তিলজলা ও তপসিয়া এলাকায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি চক্র চালাত এই সোনা পাপ্পু। ২০১৫ সালে বালিগঞ্জ রেলইয়ার্ডে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথম তার নাম উঠে এসেছিল সংবাদ শিরোনামে।

এর পরে ২০১৭ সালে একটি খুনের মামলা এবং ২০২১ সালে প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্না পাণ্ডের উপরে হামলার অভিযোগ-সহ একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা শীর্ষস্থানীয় পুলিশকর্তার মদতে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন চলত কিনা, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




