SIR ভয়ঙ্কর চিত্র বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁয়! মতুয়া গড়ে লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ল লক্ষ লক্ষ মতুয়ার

0
292

মতুয়া গড় বলে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার খাস ঠাকুরবাড়ি ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে খসড়া তালিকায় বাদ পড়তে চলেছে বিপুল সংখ্যক মতুয়ার নাম। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু বনগাঁ মহকুমা থেকেই হিয়ারিংয়ে ডাক পাচ্ছেন ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৬২ মানুষ। প্রায় ৮৬,১৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

তৃণমূলের মতুয়া নেতৃত্বের দাবি, প্রায় ৮৫ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মতুয়াদের মধ্যে। রক্তচাপ বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলোরও। বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ, গাইঘাটা এবং বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র মূলত মতুয়া অধ্যুষিত। এই চার কেন্দ্রে গড়ে ৪০ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের বাস।

বাংলাদেশ ছেড়ে জীবন-মরণ লড়াই করে মতুয়ারা এ দেশে এসে বসবাস শুরু করেন বহু বছর ধরে। এ বার ‘সার’ শুরু হতেই নাগরিক হওয়া নিয়ে সংশয়ে ছিলেন মতুয়ারা। কমিশনের নির্ধারিত নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অধিকাংশ মতুয়াদের কাছেই নেই। ‘সার’ প্রক্রিয়া শুরু হতেই ঠাকুরবাড়িতে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর দাদা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর আলাদা আলাদা ভাবে ক্যাম্প করেন। সেই ক্যাম্পে গত তিন মাস ধরে প্রতি দিন বহু মতুয়া এসে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। দুই ভাইয়ের ওই ক্যাম্পে মতুয়াদের ভিড় থেকে স্পষ্ট, নাগরিকত্ব পেতে মতুয়ারা কতটা উদ্বিগ্ন।

সুব্রতর দাবি, ‘আমার ক্যাম্পে এখনও পর্যন্ত ১৫ হাজার মতুয়া নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৫০ থেকে ২০০ জন নাগরিকত্ব পেয়েছেন।’ উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৮৩ লক্ষ ৬৮১। তার মধ্যে নাম কাটা গিয়েছে ৭ লক্ষ ৯২ হাজার ১৩৩ জনের। ৭লক্ষ ৪১ হাজার ৭০০ জন ভোটারকে উপস্থিত হতে হবে হিয়ারিংয়ে।

সবথেকে ভয়ঙ্কর চিত্র বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁয়। কারণ, ধর্মীয় কারণে ও পার বাংলা থেকে আসা বহু মানুষ এখানকার ভোটার। তাঁদের সিংহভাগের নামই ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নেই। বনগাঁ মহকুমার বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা বিধানসভায় মোট ৮৬ হাজার ১৮৯ জনের নাম বাদ পড়েছে।

১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৬২ জন মানুষকে হিয়ারিংয়ে যেতে হবে। এঁরা ‘ডাউটফুল’ ভোটার। তার মধ্যে শুধু ঠাকুরনগরের কেন্দ্র গাইঘাটাতেই ৩৮,৮৪৯ জন ভোটারকে হিয়ারিংয়ে হাজির হতে হবে। বাকি কেন্দ্রগুলিরও কমবেশি একই অবস্থা। বনগাঁ মহকুমায় এই চার কেন্দ্র মিলিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশ মতুয়া ভোটারের নাম রয়েছে ২০০২-এর তালিকায়।

গোপালনগরের হরিশপুরের বাসিন্দা মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোলা রায় বলেন, ‘আমার এবং পরিবারের সকলের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় রয়েছে। আমার জন্ম এখানে। কমিশনের নির্ধারিত সব নথি রয়েছে। কিন্তু আমার মতুয়া ভাইবোনদের অধিকাংশের নাম না থাকায় দুশ্চিন্তা হচ্ছেই।’ ২০১৯ থেকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। একমাত্র বাগদা ছাড়া বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ এবং গাইঘাটা কেন্দ্রে বিজেপি-রই বিধায়ক।

এত দিন মতুয়ারা দু’হাত ভরে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘ফাইনাল লিস্টেই দেখা যাবে মতুয়াদের কারও নাম বাদ পড়েনি। তবে একটা বড় অংশকে হিয়ারিংয়ে যেতে হবে। তাঁদের নথির বিষয়টি দেখছি।’

তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘হিয়ারিংয়ে ডাক পাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই মতুয়া। তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় নেই। এঁদের কোনও প্রয়োজনীয় নথিও নেই। ফলে হিয়ারিংয়ে নথি দেখতে পারবেন না। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

মমতাবালার অভিযোগ, ‘২০০২ থেকে বিজেপি এঁদের ভোট নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরবাড়িতে এসে বড়মার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।’

Previous articleমমতাকে চিঠি দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা অরূপের!পদত্যাগপত্র কি গৃহীত? কী জানালেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল!
Next articleবাড়ল তাপমাত্রা, বড়দিনে ঠান্ডার আমেজ থাকবে কি? জানুন আবহাওয়ার পূর্বাভাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here