

“আর কত জীবন যাবে? এই এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য আরও কতকে মরতে হবে? কত মৃতদেহ দেখলে কমিশনের হুঁশ হবে? বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।” কৃষ্ণনগরের বিএলও-র মৃত্যুতে কমিশনকে প্রশ্ন রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

রাজ্যে এসআইআর পর্ব চলতে চলতেই খবর আসে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হয়েছেন এক মহিলা প্যারা-শিক্ষিকা, চাপড়া বিধানসভার ৮২ নম্বর আসনের ২০১ নম্বর বুথের BLO রিঙ্কু তরফদার। শুক্রবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিঠি রেখে গিয়েছেন, যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপ এবং পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে বিএলও–র দায়িত্ব পালন নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন রিঙ্কু। এদিন তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে কমিশনকে দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ।

এহেন ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “একজন মহিলা প্যারা-শিক্ষিকার এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরপর বিএলও মারা যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের জীবনরক্ষা করা।”
পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে কর্মরত এই মহিলাকে সম্প্রতি বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিবার সূত্রে খবর, কম্পিউটারে তেমন দক্ষ না হওয়ায় শুরু থেকেই তিনি গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। প্রশাসনিক চাহিদা, কাজের টার্গেট পূরণের চাপ এবং কোনও ভুল হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আতঙ্ক— সব মিলিয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রিঙ্কু। শেষ পর্যন্ত বাড়ির এক ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ।

সূত্রের খবর, রিঙ্কুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে নদিয়ার জেলাশাসক তথা DEO-এর কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন CEO। দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে জলপাইগুড়ির মালবাজারে শান্তিমুনি এক্কা নামে এক BLO-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
সূত্রের খবর, সেই ঘটনায়ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেখানেও কাজের চাপ না নিতে পারার অভিযোগ তোলেন বাড়ির লোকেরা।

পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয় আরও এক BLO নমিতা হাঁসদার। তিনি মেমারির চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের BLO ছিলেন। তাঁর পরিবারও অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ তুলেছিল। শুধু এ রাজ্যেই নয়, কেরালা, গুজরাট, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতেও SIR-এর চাপ সহ্য করতে না পেরে BLO-এর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

ভোটের কাজে যুক্ত সরকারি ও অস্থায়ী কর্মীদের নিরাপত্তা, চাপ কমানো এবং মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।



