PM Modi’s US Visit: ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে মার্কিন সফরে মোদী ,৩৬ ঘণ্টায় ৬ হাই-প্রোফাইল বৈঠক
deshersamay
মার্কিন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ ওয়াশিংটনে পা রাখলেন তিনি। দুইদিনের এই মার্কিন সফরে তিনি দেখা করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। অনাবাসী ভারতীয়দের ফেরত পাঠানো এবং শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারির মাঝে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আজ, ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নতি ও অংশীদারিত্ব নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। উঠে আসতে পারে বাংলাদেশ ইস্যুও।
আজ ভোর রাতে ওয়াশিংটনে পা রাখতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে আশাবাদী তিনি। ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক ও অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমেরিকা পৌঁছেই ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ডের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন সফরে এবারও ব্লেয়ার হাউসেই থাকছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এটিকে বিশ্বের সবথেকে এক্সক্লুসিভ হোটেল বলা হয়, যেখানে হোয়াইট হাউসে আগত অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
মোদী যেখানে রয়েছেন সেই ব্লেয়ার হাউসকে বলা হয় ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট এক্সক্লুসিভ হোটেল’। কী বিশেষত্ব রয়েছে এই জায়গার?
ব্লেয়ার হাউস কেবল বিলাসবহুল গেস্ট হাউস চিহ্নিত করলে এই পরিচিতিকে সীমিত করা হয়। এই ঐতিহাসিক বিল্ডিং আর পাঁচটা গেস্ট হাউসের থেকে অনেকটাই আলাদা। যে কেউ চাইলেই এখানে অতিথি হয়ে আসতে পারেন না। মার্কিন সফরে যাওয়া কোনও দেশের রাষ্ট্র প্রধান বা রাজ পরিবারের সদস্যরাই এখানকার অতিথি হন। তাই এই ব্লেয়ার হাউস দশকের পর দশক ধরে স্বাগত জানিয়েছে এ বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক দেশের প্রাইম মিনিস্টার, প্রেসিডেন্ট, রয়্যাল ফ্যামিলিকে। সেই জন্য একে ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট এক্সক্লুসিভ হোটেল’ বলেও অভিহিত করা হয়।
ব্লেয়ার হাউস হোয়াইট হাউসের একে বারে উল্টোদিকে অবস্থিত। এর ঠিকানা ১৬৫১ পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ। ১৮৩৭ সালে তা তৈরি হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এই প্রাসাদ। একে হোয়াইট হাউসের এক্সটেনডেড পার্ট বললেও ভুল হবে না। ৭০ হাজার বর্গফুট এলাকায় জুড়ে তা বিস্তৃত। এতে রয়েছে ১৯৯টি ঘর। ১৪টি গেস্ট বেডরুম। ৩৫টি বাথরুম। তিনটি ডাইনিং রুম। সমস্ত পরিষেবযুক্ত বিউটি স্যাঁলো। পাঁচ তারা হোটেলের মতোই রাজকীয় পরিষেবা পেয়ে থাকেন এখানকার অতিথিরা। ব্লেয়ার হাউস জুড়ে দুর্লভ আসবাব রয়েছে। সেই সঙ্গে বিখ্যাত চিত্রকলার বিভিন্ন নির্দশনও রয়েছে সেখানে।
বিশ্বের বিখ্যাত বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের পদধূলি পড়েছে ব্লেয়ার হাউসে। ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার মার্গারেট থ্যাচার থেকে ইজ়রায়েলের প্রাইম মিনিস্টার গোলডা মের। ব্রিটেনের রাণি কুইন এলিজ়াবেথ থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট চার্লস ডি গুলে। এমন শতাধিক বিখ্যাত নাম রয়েছে তালিকায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় জওহরলাল নেহেরু এবং ইন্দিরা গান্ধীও ছিলেন ব্লেয়ার হাউসে। এখন সেখানে অতিথি হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। সে জন্য মোদী পৌঁছনোর আগেই ব্লেয়ার হাউসে উত্তোলিত হয়েছে ত্রিরঙ্গা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানার্থেই এই পতাকা উত্তোলন।
ঠাসা কর্মসূচিতে ভরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন সফর। ৩৬ ঘণ্টায় ছ’টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের তালিকার মধ্যে রয়েছে টেসলা কর্তা ইলন মাস্কের নামও। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধেতেই মুখোমুখি হতে চলেছেন স্পেস এক্স-এর শীর্ষ কর্তা মাস্ক ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের দাবি, হোয়াইট হাউসেই হতে পারে এই সাক্ষাৎ।
Met USA’s Director of National Intelligence, @TulsiGabbard in Washington DC. Congratulated her on her confirmation. Discussed various aspects of the India-USA friendship, of which she’s always been a strong votary. pic.twitter.com/w2bhsh8CKF
— Narendra Modi (@narendramodi) February 13, 2025
অন্যদিকে, মাস্কের একদা বন্ধু ও বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানের ভারত সফরের পরই মোদীর সঙ্গে টেসলা কর্তার এমন সাক্ষাৎ পর্ব আকর্ষণীয় বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম আমেরিকা সফর। গতবার মোদী-ট্রাম্পের বন্ধুত্ব দেখেছিল সবাই। এবার সেই বন্ধুত্ব আরও মজবুত হয় নাকি অনাবাসী-শুল্ক সহ নানা ইস্যুর আঙ্গিকে নতুন মোড় নেয়, তাই-ই দেখার।
