


গত রবিবার কলকাতায় এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিনি। এছাড়াও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, মেট্রো চ্যানেলে চলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা। সোমবার সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বঙ্গে সফরের তৃতীয় দিনে দেবী দর্শনের পরে কাজ শুরু করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার সকালে বেলুড় মঠ ও দক্ষিণেশ্বরে গিয়েও শুনলেন গো-ব্যাক স্লোগান। দেখানো হয় কালো পতাকাও। যদিও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান, রাজ্যে হিংসামুক্ত নির্বাচন করাতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘এ বারের নির্বাচনে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই দিকে নজর থাকবে। হিংসামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।’ এ নিয়ে সোমবারের বৈঠকে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি বলে সূত্রের খবর। মুখ্য নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ভোটে কোনও ধরনের হিংসা মেনে নেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে কমিশন।

এ দিন সকাল ৭টা নাগাদ জ্ঞানেশ কুমার বেলুড় মঠে যান। মূল মন্দির দর্শন করেন। তার পরে অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। ৪৫ মিনিট বেলুড় মঠে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বেলুড় মঠ থেকে দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণীর মন্দিরে যান তিনি। এই সময়েই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াকের নীচে রাস্তার পাশে কালো পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক দল বিক্ষোভকারী।

দক্ষিণেশ্বরের মূল ফটকের অনতিদূরে সকাল থেকেই কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন ওই এলাকার কিছু তৃণমূল কর্মী- সমর্থক। জ্ঞানেশ কুমারের গাড়ি দেখতেই তাঁরা গো-ব্যাক স্লোগান শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন মানুষকে হয়রানি করছে, পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে নাম কেটে দিচ্ছে, জীবিত ভোটারকে মৃত দেখাচ্ছে। ভোটারদের আইনি প্যাঁচে ফেলা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। যদিও পুলিশ ব্যারিকেড করে মন্দিরের বাইরে আটকে রাখে।
সফরের শেষদিনে CEO, CAPF-এর নোডাল অফিসারের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এরপর রাজ্যের মুখ্যসচিব-সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও ভোট প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সারবেন তাঁরা। সব শেষে BLO-দের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এ দিন বিকেলে দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা তাঁদের।




