Lynched’বাচ্চা চুরি করতে এসেছিস’,মেলার মধ্যেই গণপিটুনি! হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন যুবক

0
23

দেশের সময়, খড়দহ:  ছেলেধরা সন্দেহে মারধর, সেই সূত্রে হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে! 
বুধবার বারাসতের কাজিপাড়া থেকে এক বালক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলা এবং তাঁর সঙ্গীকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে।

একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার অশোকনগরের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুমলিয়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এক তরুণী। তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও।

এবার ছেলেধরা সন্দেহে শুক্রবার রাতে খড়দহের রুইয়া এলাকায়  নাজির হোসেন নামে ৩২ বছরের এক যুবককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করেছে। ব্যারাকপুর হাসপাতালে হয়ে তাঁকে কলকাতায়
স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, যুবকটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। দোষীদের শাস্তির দাবিতে ইতিমধ্যে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন নাজিরের পরিবার। ঘটনার তদন্ত নেমেছে পুলিশ। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

ছেলেধরা গুজবে উত্তর ২৪ পরগনায় চারদিনে তিনটি গনপিটুনির ঘটনা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যেমন উন্মত্ত জনতার আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট তেমনই প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকাও। বস্তুত, শুক্রবার অশোকনগরে জখম তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় থানার পুলিশ কর্মীদেরও।
 
পুলিশ সূত্রের খবর, ইদ উপলক্ষে শুক্রবার মেলা বসেছিল মোহনপুর পঞ্চায়েতের কাঠালিয়ায়। মেলায় ঘোরাঘুরি করার সময় নাজিরকে ঘিরে ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, এরপরই নাজিরকে ‘তুই এলাকার বাচ্চা চুরি করতে এসেছিস’ বলেই মারধর শুরু হয়। 

lএলাকার ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাজিরের এলাকার মানুষজন। পরে মোহনপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। জখম যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়েছে। নাজিরের প্রতিবেশীদের বক্তব্য, “একটা ভাল ছেলেকে এভাবে ছেলেধরা অপবাদ দিয়ে মারধর করা হল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বারাসতের কাজিপাড়ায় একটি শিশুর দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে শিশুচুরির গুজব। সোশ্যাল মিডিয়ায়েতও এই সংক্রান্ত পোস্ট ভাইরাল হয়। বুধবার শিশুচোর সন্দেহে ৩ জনকে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। গুরুতর আহতর অবস্থায় ওই ৩ জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে মহিলাও রয়েছেন। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জনতার রোষের মুখে পড়ে পুলিশও। এরপরেই বিষয়টিতে আরও বেশি করে তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন।

এই গুজব এবং সমাজমাধ্যমে ‘অপপ্রচারের’ কারণে বুধবারই তিন জন সন্দেহের বশে গণধোলাই খান। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই ছেলেধরা-তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছিল। দুই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। গণপিটুনি যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের বেশ কয়েক জনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। অন্তত ১৭ জনকে গ্রেফতারের খবর মিলেছে।

Previous articleJagannath Dev ২২ ঘড়া গঙ্গাজল, দেড়মণ দুধে হুগলির মাহেশে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা, পুণ্যার্থীদের ঢল পুরী , মায়াপুরেও
Next articleLocal Train শিয়ালদহের আরও ৩ প্ল্যাটফর্ম থেকে চলাচল শুরু ১২ কামরার লোকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here