Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
‘প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে’,বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিল কারখানায় ১০০০ কোটির লগ্নি , শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘কোনও গাফিলতি সহ্য করব না’, মুর্শিদাবাদের পুলকার দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাতসকালে মর্মান্তিক কাণ্ড! ট্রেনের ধাক্কা, স্কুল যাওয়ার পথে দুই পড়ুয়া-সহ তিন জনের মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ রেলের সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট,    কলকাতার ইসকনের ৫৫তম রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী,দু’কলি গানও গাইলেন শুভেন্দু ফের বিপর্যয় পুরীর রথযাত্রায় , পদপিষ্ট কমপক্ষে ২০০ পুণ্যার্থী, মৃত ১,ভিড়ের চাপে অসুস্থ একাধিক

‘কোনও গাফিলতি সহ্য করব না’, মুর্শিদাবাদের পুলকার দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

deshersamay

Share article:

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ পুলকার দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ওই পুলকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুশুক্রবার সকালে নিমতিতা-কাটোয়া লোকালের ধাক্কায় দুই পড়ুয়া-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর জখম তিন পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে ভর্তি করানো হয়েছিল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে। দুপুরে সেখানেই ইশানুর রহমান (৫) ও তামান্না পারভিন (৭) নামে আরও দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। দুর্ঘটনার পরেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচিন মক্কর।

দুর্ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীশুভেন্দু অধিকারী । তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় জানান, ঘটনার পরই রাজ্য পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে দায়িত্বে থাকা রেল গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাঁদের গাফিলতি বা দায় প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্বও নিয়েছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদেরও ঘটনাস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার সকাল থেকেই দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ, তদন্ত এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রত্যেক আহতকে সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনায় মৃত তিন জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে।

শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে গেটম্যানের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে কেবিনে নেশার ঘোরে বসে থাকতে দেখা যেত। এমনও অভিযোগ উঠেছে, বহু দিন গেট বন্ধ করার পর আবার খুলতে ভুলে যেতেন তিনি। শুক্রবারের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত থাকার কারণেই সময়মতো রেলগেট বন্ধ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার পর পূর্ব রেলও প্রাথমিক তদন্তে স্বীকার করেছে, ট্রেনটি যখন লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করে, তখন গেট খোলা ছিল। রেলের প্রকাশিত বিবৃতিতেও এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে রেল জানিয়েছে, সিগন্যাল ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। নির্ধারিত সংকেত মেনেই ট্রেন চলছিল। ফলে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যানের ভূমিকা।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন