Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

India US ৫০%’শুল্কচাপ’ বৃদ্ধির মধ্যেই আমেরিকার থেকে  যুদ্ধাস্ত্র কিনছে ভারত

deshersamay

Share article:

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যমহলে বিস্তর জল্পনা এবং আশা-নিরাশার দোলার পর শেষ পর্যন্ত ২৭ অগস্ট (ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৩১) থেকে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫% ধরে মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্কের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ফেলেই দিলেন প্রেসিডেন্ট। ।

বুধবার থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় করবে আমেরিকা। তা বাণিজ্য ক্ষেক্ষেত্রে  দু দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও সামরিক সহযোগিতার দরজা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকছে।

শুল্ক নিয়ে বিবাদ চরমে উঠলেও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার বিকল্পগুলি উন্মুক্ত রাখছে ভারত ।  বুধবারই ভারতের নিজস্ব যুদ্ধ বিমান তেজসের জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহের প্রথম দফার চুক্তি কার্যকর করা হবে ।
প্রথম পর্যায়ে আট হাজার ৩০০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ আমদানি করবে ভারত । সব মিলিয়ে শুুধু তেজসের জন্যই ৬২ হাজার কোটির যন্ত্রাংশ আমদানির ছড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার এই সংক্রান্ত কমিটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে্। মোদ্দা কথা সামরিক বোঝাপড়ার মধ্যে শুল্ক বিবাদকে টানছে না ভারত।

কূটনৈতিক মহলের খবর, এই ব্যাপারে কিছু বাধ্যবাকতাও আছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সর্বশেষ মার্কিন সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠকে আরও যুদ্ধাস্ত্র কেনার বিষয়ে কথা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁরা চান ভারত আরও বেশি পরিমাণে যুদ্ধের সামগ্রী কিনুক।

বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড বা হ্যালকো প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ১৮০টি তেজস যুদ্ধ বিমান তৈরির বরাত দিয়েছে। ওই বিমান তৈরির জন্য মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেসের কাছ থেকে এফ-৪০৪ ইঞ্জিন কেনার কথা ভারতের।

হ্যালের পরিকল্পনা হল, ২০২৯-৩০ এর মধ্যে ৮৩টি তেজস ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া। বাকি ৯৭টি তারা সরবরাহ করবে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসা মিগ ২১ বিমাবকে বিদায় জানাতে ২০০৩ সাল থেকে ভারত অনেকটাই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তেজস বিমান তৈরি করছে।

প্রসঙ্গত, অন্যদিকে ফতোয়া মেনে রাশিয়া থেকে জ্বালানি (এবং সমরাস্ত্র) কেনা বন্ধ না করার ‘অপরাধে।’ শুল্কের   চাপ কবে কমবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত পাহাড়প্রমাণ শুল্কের বোঝা কাটিয়ে ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধিকে মূল স্রোতে ধরে রাখাটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কাছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই একদিন আগে মেনেছেন, চাপ বাড়লে তা সহ্য করার শক্তি ভারতের রয়েছে। এখন খাতায়কলমে সেটা তাঁর প্রমাণ করার পালা। সব রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কও। তবুও বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, কাজটা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একদমই ‘অসম্ভব’ না হলেও ‘খুবই কঠিন’।

ভারত-আমেরিকার শুল্ক-নীতি নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. মার্চ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনার পরও ভারত-মার্কিন আলোচনায় কোনও সমাধান হয়নি। এর পরই ৩০ জুলাই ট্রাম্প ভারতীয় আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন। কার্যকর হয় ৭ অগস্ট থেকে। সেই সময় তিনি ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে কটাক্ষ করেন।

২. এরপর ৬ অগস্ট ট্রাম্প সই করেন এক্সিকিউটিভ অর্ডারে, যাতে আরও ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, ২১ দিন পর অর্থাৎ ২৭ অগস্ট থেকে তা কার্যকর হয়।


৩. মঙ্গলবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (CBP)-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত Executive Order 14329 কার্যকর হয় এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

৪. ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই শুল্ককে ‘অন্যায়’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য” বলে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৫. মঙ্গলবার আমদাবাদে একাধিক প্রকল্প উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কৃষক, ছোট শিল্প এবং দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থে আমরা কোনও আপোস করব না। চাপ যতই বাড়ুক, আমরা তা সামলাব।’ তিনি দেশবাসীকে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান।

৬. একই দিনে ভারত ও মার্কিন বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আগ্রহী। আলোচনা হয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে।

৭. তবে ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ বা কমানোর কোনও নির্দেশ দেয়নি। মস্কোয় ভারতের রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ভারত সেরা দামে যেখানে পাবে সেখান থেকেই তেল কিনবে।’ তাঁর মতে, ভারতের সহযোগিতা বৈশ্বিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করেছে।

৮. এই শুল্কবৃদ্ধি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে টান ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘Quad’ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া) জোটকে চীনবিরোধী কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু নতুন অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সেই প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে।

৯. মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি আগ্রাসী অর্থনৈতিক কৌশল। আমরা রাশিয়ার উপর চাপ দিতে চাই। প্রগতির হার অনুযায়ী হয়তো আরও শুল্ক আরোপ করব, না হয় কমিয়ে আনব। আমাদের হাতে অনেক অস্ত্র রয়েছে।’

১০. এক মার্কিন সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ভারতীয় রফতানিকারক সংগঠনগুলির হিসাব অনুযায়ী এই শুল্কবৃদ্ধির ফলে ভারতের মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলার। ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলির মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইলস, মূল্যবান ধাতু, অলংকার, চিংড়ি (shrimp exports) এবং চামড়াজাত পণ্য (leather products)।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন