

মঙ্গলবার সকাল থেকে নজর ছিল সুপ্রিম কোর্ট। আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি সংক্রান্ত মামলায় কী নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট, কী দাবি জানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, তা নিয়ে চর্চা চলছিল। তবে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় শুনানি স্থগিত করার আবেদন জানান তাঁর জুনিয়র।

ফের সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় তা হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা ছিল। রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিজি ও সিপি-র তরফে আগে জমা দেওয়া হলফনামার জবাব এদিন ইডির তরফে পেশ করার কথা ছিল। সেই কারণেই এই শুনানির দিকে বিশেষ নজর ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

তবে রাজ্যের প্রধান আইনজীবী কপিল সিব্বলের শারীরিক অসুস্থতার কারণে মামলার শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়। কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি করা হোক। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েই বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ ওই দিন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য থেকে রাজধানী পর্যন্ত। বিশেষ করে ১০ ফেব্রুয়ারি (মামলার গত শুনানিতে) এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নেওয়ার পর এই মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন সব নজর ১৮ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকেই।

কয়লা পাচার মামলায় ইডি আধিকারিকরা কলকাতায় অভিযান চালিয়ে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে সংস্থার অফিসে হানা দিয়েছিল। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন দুই জায়গাতেই উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে বাধা এবং নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শীর্ষ আদালতে আগেই জানিয়েছেন যে, তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি নেওয়া হয়নি, বরং ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়ে দলীয় নথি বের করে নেওয়া হয়েছিল।

ইডির অভিযোগের জবাবে আগের শুনানিতে রাজ্যের তরফে বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেছিলেন, ইডির জমা দেওয়া ভিডিও রেকর্ডিং দেখতে। সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা একতরফা মিথ্যা। ইডি আইপ্যাক অফিসে পৌঁছেছিল সকাল ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ। আর মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন দুপুর ১২টার সময়। বেরিয়ে গিয়েছেন সওয়া ১২টায়। ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ইডি কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করেনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত আইফোন ও ল্যাপটপ নিয়েছেন, যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ছিল। কপিল সিব্বল প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ভোটের আগে তল্লাশির প্রয়োজন ছিল? বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এর উত্তরে বলেন, ওদের যদি আপনাদের ভোটের তথ্য নেওয়ার অভিপ্রায় থাকত, তাহলে তারা নিতে পারত। কিন্তু ইডি তা নেয়নি। আপনি আমাদের নোটিস জারি করা থেকে বিরত করতে পারেন না। রাজ্যের আইনজীবী এনিয়ে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই পারি না। কিন্তু আমরা আপনাকে কেবল পরিস্থিতিটুকু বোঝানোর চেষ্টা করছি।




