

উত্তরাখণ্ডের আলমোরা জেলার ডাবরা গ্রামের একটি সরকারি স্কুলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হওয়ায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষ সিংয়ের তৎপরতায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তিনি দেখেন যে স্কুলের পাশে ঝোপে কিছু প্যাকেট পড়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনার কথা মাথায় রেখেই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে, সরাসরি পুলিশে ফোন করে জানান। পুলিশের দুটি টিম এসে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডে। পুলিশ কুকুরই ঝোপ থেকে জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে। ২০ মিটার দূর থেকে আরও কয়েকটি বিস্ফোরক ভর্তি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড সেই বিস্ফোরক উদ্ধার করে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষ সিং স্কুলের কাছে একটি ঝোপের মধ্যে মুখ বন্ধ প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে উধম সিং নগর এবং নৈনিতাল থেকে পুলিশের দুটি দল, বম্ব স্কোয়াড এবং পুলিশের তল্লাশি কুকুর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করার পর ঝোপের মধ্যে থেকে মোট ১৬১টি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ২০ কিলোগ্রাম।

আলমোরার পুলিশ সুপার দেবেন্দ্র পিঞ্চা জানিয়েছেন, “কোথা থেকে এবং কেন এত সংখ্যক বিস্ফোরক এখানে এলো, তার তদন্ত করা হচ্ছে। আশেপাশের এলাকাগুলিতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান যে, বিএএস আইন অনুসারে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেআইনি বিস্ফোরক উদ্ধারের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণত পাথর কেটে রাস্তা তৈরি বা খনি অঞ্চলে পাথর খাদানের জন্য এই ধরনের জিলেটিন স্টিক ব্যবহার করা হয়। নির্মাণ কাজের জন্য রাখা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সম্প্রতি দিল্লি বিস্ফোরণ এবং হরিয়ানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পরে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। দিন কয়েক আগেই হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে পশ্চিমবঙ্গেও নাকা চেকিংয়ের সময় জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ড থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।



