দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে রথযাত্রা । এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বুধবার তিনি পৌঁছলেন দিঘায়। সূত্রের খবর, যাওয়ার পথে কাঁথিতে গাড়ি থামিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝে পৌঁছে যান মারিশদা থানাতেও। কথা বললেন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে।
আগে ঠিক ছিল, রথের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিঘায় পৌঁছবেন তিনি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সফরে বদল আনা হয়। এদিন সকালে টেলিফোনে ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়ে দেন, ‘প্রথমে ঠিক ছিল রথযাত্রার আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিঘায় আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শেষ মুহূর্তে সফরসূচি বদল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বুধবার দুপুরেই দিঘায় পৌঁছচ্ছেন।’
গত ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তারপর থেকেই সৈকত শহরে উপচে পড়ছে ভিড়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে দিঘার মন্দিরে দর্শনে পৌঁছেছেন। ২৭ জুন রথযাত্রার দিন ভিড় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নবান্নে ইতিমধ্যেই হয়েছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার দিঘায় গিয়ে সরেজমিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এসেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, রথের দিন দুই লক্ষেরও বেশি মানুষে জমায়েত হতে পারে। তাই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন মন্দির চত্বর ও রথযাত্রার রুটজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, তৈরি হচ্ছে চারটি ওয়াচ টাওয়ার। রাখা হচ্ছে লম্বা দড়ি, যাতে পুণ্যার্থীদের রথ টানতে কোনও সমস্যা না হয়।
পুরীর মতো দিঘার মন্দিরেও যাতে রথযাত্রার আগে সোনার ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা ঝাঁট দেওয়া যায় তার জন্য নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লক্ষ ১ টাকা দিয়ে সোনার ঝাড়ু কিনে দিয়েছিলেন মমতা। রথযাত্রার দিন মুখ্যমন্ত্রী ওই সোনার ঝাঁটা দিয়ে ঝাঁট দেবেন। তারপরই রথের চাকা গড়াবে।
জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা যাবেন মাসির বাড়ি, যা মন্দির থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। সূত্রের খবর, বাঁক নিতে সমস্যা হওয়ায় রথযাত্রার রুটে আনা হয়েছে সামান্য বদল। এবার রথ টানা হবে মন্দিরের দক্ষিণ গেট দিয়ে অর্থাৎ ১১৬-বি জাতীয় সড়ক ধরে মাসির বাড়ি পর্যন্ত।
নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা চাক্ষুষ করতে চান তিনি। সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখতেই আগেভাগে দিঘায় উপস্থিত হয়েছেন। তবে, এখনও মন্দিরে যাননি বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আসার খবর পেয়ে গোটা দিঘাজুড়ে নিরাপত্তা আঁটসাট করা হয়েছে। ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে কাঠের বড় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যান চলাচলও।



