

রাজ্যে ভোটযুদ্ধের পারদ যত চড়ছে, ততই ঝাঁঝ বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার কর্মসূচিতে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। উত্তরবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা কি এদিন মোদীর মুখে শোনা যাবে? নাকি পাহাড়-তরাইয়ের মানুষের জন্য থাকবে অন্য কোনও বড় ঘোষণা? নির্বাচনী ময়দানে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ শাসক শিবির। আর সেই লক্ষ্যেই আজ প্রচারে নামছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও।

আজই বাঁকুড়া-দুর্গাপুরে তিনটি জনসভা মমতার, মেদিনীপুরের মাটিতে অভিষেক ।পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম জনসভা।এদিন বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখে ছাতনা এবং ওন্দা – জঙ্গলমহল সংলগ্ন এই জেলাগুলোতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক সংহত করাই নেত্রীর প্রধান লক্ষ্য।

দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মন জয়ে নেত্রী আজ কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সভাটি হবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নায়। এই জেলাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ, তাই সেখানে অভিষেকের উপস্থিতি কর্মী-সমর্থকদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ময়না শেষ করে অভিষেক পা রাখবেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশবপুরে। কেশবপুরের মাটিকে বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয়।
ভোট-প্রচারপর্বে আজ লক্ষ্য উত্তরবঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেলা ১১টায় শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানের এই মেগা জনসভা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। জনসভায় ভিড় টানতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম অমিত শাহ! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কর্মসূচির সংখ্যাই যেন সেই কথা বলছে। ৩০টি কর্মসূচি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। সাযুজ্য রেখেই বঙ্গ বিজেপির চার্জশিট থেকে সংকল্পপত্র প্রকাশ, সবটাই হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর ডেপুটির হাত ধরে। আবার তিনিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছিলেন বলে খবর। শুধু বলেই ক্ষান্ত নয়। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বে হাজিরও থাকলেন।
এরইমধ্যে আবার জানিয়েও দিয়ে গেলেন ভোট বঙ্গে টানা ঘাঁটি গেড়ে বসার কথা। সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অমিত শাহকে বারবার নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে লড়াইটা আর শুধু আর শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই লড়াই ক্রমশ নিজের কাঁধেই তুলে নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তাঁর কর্মসূচি সাজানোতেই তা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মত রাজনীতির কারবারিদের।

ভোট ঘোষণার আগে থেকেই বাংলায় ঝোড়ো প্রচার চালাচ্ছে পদ্ম শিবির। ভোট ঘোষণার পর যেন গতি আরও বেড়ে গিয়েছে। আপাতত স্থির যা হয়েছে প্রথম দফায় নরেন্দ্র মোদীর ১১টি কর্মসূচি রয়েছে। অমিত শাহর কর্মসূচির সংখ্যা সেখানে ৩০টি। আসছেন যোগী আদিত্যনাথও। রয়েছে একেবারে ১১টি কর্মসূচি পাশাপাশি নীতিন নবীন থেকে রাজনাথ সিং, কেউই বাদ নেই।
সূত্রের খবর, নীতিন নবীনের কর্মসূচির সংখ্যা ১০টি। রাজনাথ সিংয়ের ৬টি। নীতিন গডকরির কর্মসূচির সংখ্যা ২টি। জে পি নাড্ডার কর্মসূচির সংখ্যা ৬, মানিক সাহা ৯, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৮, মোহন চরণ মাঝি ৬, রেখা গুপ্তার সংখ্যা সেখানে ৫টি। ময়দানে আছেন কঙ্গনা রানাওয়াতও। তাঁর কর্মসূচির সংখ্যা ৭টি। স্মৃতি ইরানির কর্মসূচির সংখ্যা ১৩টি। এই কর্মসূচিগুলোর মধ্যে জনসভা এবং রোড শো রয়েছে। বিপ্লব কুমার দেবের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা সেখানে ৮টি। বাবুলাল মারান্ডির ক্ষেত্রে সংখ্যা ৪টি। অর্জুন মুণ্ডার ২ থেকে ৪। হেমা মালিনীর সেখানে একটি কর্মসূচি।




