World Parrot Day 2023 : মরণফাঁদ ট্র্যাপ নেট! পাখিদের উদ্ধারের কাজে গ্রামে গ্রামে সচেতনতার প্রচারে বন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা : দেখুন ভিডিও
deshersamay

অর্পিতা বনিক, পারমাদন : পুকুর বা খেতের কিছুটা উপরে ফাঁদি জাল লাগানো হচ্ছে। পাখি ফসল বা মাছের খোঁজে নামলেই ওই জালের ফাঁসে জড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ উদ্ধার না করলে কিছুক্ষণের মৃত্যুও হয়।

বনগাঁর ছয়ঘড়িয়া গ্রামে একটি পুকুরের জালে আটকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পাখি মারা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নানা জায়গার বেগুন খেতেও ওই জাল দেখা যাচ্ছে।

যাঁরা ওই জাল ব্যবহার করছেন, তাঁদের দাবি, পুকুর বা খেত রক্ষায় ফাঁদিজাল না পাতলে পাখিদের জন্য বহু টাকার ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের একাংশের পাল্টা দাবি, বড় জলাশয়ে প্রচুর মাছ থাকে। পাখিরা বক, পানকৌড়ির মতো পাখি হয়তো দু’একটি ছোট মাছ খায়। এতে চাষির খুব বেশি আর্থিক ক্ষতি হয় না। দেখুন ভিডিও

পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলে এই প্রবণতা বাড়ছে। তাঁরা পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। সেচ্ছাসেবী সংগঠন বন-এর পক্ষ থেকে জেলার কিছু জায়গায় কর্মসূচির মাধ্যমে চাষিদের বোঝানো হচ্ছে, জীব বৈচিত্র রক্ষায় পাখি রক্ষা জরুরি। কিন্তু তাতে কাজ কতটা হচ্ছে, সে প্রশ্ন থাকছেই।

পরিবেশকর্মী বিভাস রায়চৌধুরী বনগাঁ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জেলার গ্রামীণ এলাকায় পথনাটকের মাধ্যমে পশুপাখি হত্যার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার কাজ করেন। বিভাসও ওই জাল বিছানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘৫০ বছর আগেও মাছের ভেড়ি ছিল। তখন কি এই মারণজাল পাতা হত? ভেড়ি ঘিরে মাছরাঙারা থাকত। ভোঁদড় থাকত। বাঘরোলরা মাছ শিকার করত। এখন তারা সব বিলুপ্তপ্রায়। প্রশাসনকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’’

জেলা বন দফতর অবশ্য দাবি করেছে, এক শ্রেণির চাষির জাল বিছানোর প্রবণতা বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। চাষিদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হচ্ছে।

বৃধবার বিশ্ব তোতা (টিয়া পাখি) World Parrot Day দিবস উপলক্ষে সেচ্ছা সেবী সংগঠন বন-এর পক্ষ থেকে ৫টি উদ্ধার হওয়া টিয়া পাখিকে বন দপ্তরের হাতে তুলে দিলে , বন বিভাগের কর্মীরা সেই পাখিগুলিকে পারমাদন অভয়ারণ্যে ছেড়েদেন ৷

এদিন পারমাদনে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ এসএফ রেঞ্জ অফিসার, বিট অফিসার, ডিভিশন অফিস স্টাফ সহ বন ফাউন্ডেশন এর সদস্যরা ৷ ফাউন্ডেশনের পক্ষে শিক্ষক সৌরভ ঘোষ জানান উত্তর চব্বিশ পরগনার তালখোলা, রাজাপুর, এলাকায় কয়েক বিঘা জমি জুড়ে পাতা ছিল ফাঁদি জাল ৷ যা বনদপ্তরের সহযোগীতায় ফাউন্ডেশনের সদস্যদের যৌথ উদ্যোগে তা উদ্ধার করে পাখিদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই৷


