প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘উই উইল ডু ইট’, প্রশাসক পদে ২৫ বছর পূর্তিতে নয়া স্লোগান তুললেন মোদী , ২০৪৭-এ বিকশিত ভারত গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর , দেশবাসীকে দিলেন তিনটি টার্গেট

deshersamay

Share article:

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—টানা ২৫ বছর প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার মাইলফলক ছুঁলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ মে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বুধবার মোদীর প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার ২৫ বছর পূর্ণ হল। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম থেকে বিকশিত ভারতের নয়া স্বপ্ন বুনলেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার নয়া স্লোগানও বেঁধে দিলেন তিনি— ‘উই উইল ডু ইট।’ অর্থাৎ, ‘আমরা করে দেখাবই।’ ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই নতুন স্লোগান।

মূলত তিনটি বড় লক্ষ্য নির্দিষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী 
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি গঠন:
২০১৪ সালে মোদী যখন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ভারতীয় অর্থনীতি ছিল বিশ্বের দশম স্থানে। বর্তমানে ভারত ষষ্ঠ থেকে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার জন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

মহাকাশে ভারতের নিজস্ব অভিযান:
সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানো এবং অন্তরীক্ষে ভারতের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা।
অলিম্পিক গেমসের আয়োজন ও ম্যানুফ্যাকচারিং হাব:
ভারতকে বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশেই অলিম্পিক গেমসের আসর বসানো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক হিসেবে মোদীর ২৫ বছর পূর্তির মুহূর্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিজেপি সরকার বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। সম্প্রতি শিক্ষা আন্দোলন ও যুব বিক্ষোভের ধাক্কায় গত জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। তার ওপর, নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) এবং ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগে বিরোধীদের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার দিল্লিতে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজকে ভোটের অঙ্কে ভাগ করার রাজনীতিকেও দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ দিন তিনি বলেন, ‘এই ২৫ বছরের যাত্রা আসলে তাঁর ব্যক্তিগত নয়, দেশের মানুষের আস্থা ও সহযোগিতার ফল। আমি ভারতের মানুষের আস্থার সামনে মাথা নত করছি। আমার কাছে মানুষই ঈশ্বর।’ পাশাপাশি, বিজেপির কর্মীদের নিজের শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মোদীর দাবি, সমালোচকদের সমালোচনা থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘রাষ্ট্রসেবায় নিজেকে কখনও একা মনে হয়নি। সব সময়ে কর্মীদের পাশে পেয়েছি। প্রত্যেক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমি নিজেকে এখনও শিক্ষার্থী মনে করি। কর্মই আমার ধর্ম।’ এখানেই শেষ নয়, রাজনৈতিক বিরোধীদের কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা আমার বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরা আমায় আসলে গণতন্ত্রের শক্তি চিনিয়েছেন।’

‘২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত—উই উইল ডু ইট’
দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক স্বপ্নের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত—উই উইল ডু ইট।’ এর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে দেশ। ভারত অলিম্পিকস আয়োজন করবে, মহাকাশে যাবেন ভারতীয় নভশ্চররা।’ শুধু উন্নত দেশ নয়, বিশ্বের প্রথম তিন অর্থনীতির মধ্যে জায়গা করে নেওয়া, আত্মনির্ভর ভারত তৈরি, বিশ্বে উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠা— বিকশিত ভারত-এর উদ্দেশে নেওয়া প্রতিটি লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ভারতের জনসংখ্যাকে দেশের বোঝা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখার বার্তা দেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘১৪০ কোটি নাগরিক একসঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তুলবেন, এবং আমরা অবশ্যই তা করব। উই উইল ডু ইট।’

ভোটের ভিত্তিতে সমাজকে ভাগ করার প্রবণতাকেও এদিন নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘কখনও কোনও জাতি বা সম্প্রদায় দেখে সমস্যা আসে না। তাই তার সমাধান খোঁজাও কোনও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে না।’

মোদী প্রশ্ন তোলেন, ‘কৃষকের জমিতে জল না থাকলে সেই সমস্যা কি শুধু একটি জাতির? বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার কি শুধু একটি সম্প্রদায়ের?’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘সমস্যা যদি সবার হয়, সমাধানও সবার জন্য হতে হবে। ১৪০ কোটি সমাধান রয়েছে।’

২০৪৭-এর লক্ষ্য অর্জনের পথে চ্যালেঞ্জ থাকবে বলেও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো দেশের মানুষের শক্তি রয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এদিন ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার চেষ্টা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘আজ গোটা বিশ্ব ভারতের পাইলটের কথা বলছে; এমন দিনও আসবে, যখন গোটা বিশ্ব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বিমান নিয়েও কথা বলবে।’

এই চরম রাজনৈতিক চাপের আবহে  এদিন মোদীর এই আত্মপ্রত্যয়ী আক্রমণাত্মক ভাষণ বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মনে বিপুল উদ্দীপনা জুগিয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন