প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

অ্যাথলেটিক্সে রাজ্যে রেকর্ড সৃষ্টিকারী আদিবাসী যুবক জেবিয়ার মুন্ডাকে সংবর্ধনা

deshersamay

Share article:


এম এ হাকিম : অ্যাথলেটিক্সে রাজ্যে রেকর্ডসৃষ্টিকারী আদিবাসী যুবক জেবিয়ার মুন্ডাকে সংবর্ধনা প্রদান করলেন এসিএবি কর্মকর্তা ইসমাইল সরদার। রবিবার অ্যাথলেটিক কোচেস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (এসিএবি)ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ইসমাইল সরদার অ্যাথলিট জেবিয়ারকে রাজ্য প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়ে প্রথম হওয়ার জন্য সংবর্ধিত করতে বনগাঁর বৃদ্ধপাল্লা গ্রামে তাঁর বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে জেবিয়ারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ক্রীড়াপ্রেমী, সহৃদয় ব্যক্তিদের এই প্রতিভাবান অ্যাথলিটের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।

অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ২২ বছরের জেবিয়ার মুন্ডা। অভাবের সংসারে দৈনিক খাবার জোগাড়ই করাই যেখানে খুব কঠিন, সেখান থেকে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে রাজ্য অ্যাথলেটিক্সে ২০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় জাতীয় স্তরে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে জেবিয়ার মুন্ডা। কিন্তু রাজস্থানের জয়পুরে জাতীয় প্রতিযোগিতায় যাওয়ার পথে অর্থনৈতিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাবড়া চৈতন্য কলেজের স্নাতক স্তরে তৃতীয় বর্ষে পাঠরত জেবিয়ার ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। কিন্তু বছর তিনেক আগে বড় দুই দাদার পরামর্শে অ্যাথলেটিক্সের প্রশিক্ষণে ভর্তি হন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় সাফল্যের দৌড়।

প্রথমবার রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় নেমেই ২০২৩ সালে ১০ কিলোমিটার হাঁটায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জেবিয়ার। পরের বছর ২০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য আসে। ২০২৫ সালে একই ইভেন্টে ফের প্রথম হয়ে ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিটে ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজ্য রেকর্ড গড়েন।

২০২৬ সালের রাজ্য অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ২০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে মাত্র ১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটে নির্দিষ্ট দূরত্ব শেষ করে ফের প্রথম হন জেবিয়ার। এই সাফল্যের সুবাদেই আগামী ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর রাজস্থানের জয়পুরে জাতীয় স্তরের ২০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচের একটি বড় অংশ প্রতিযোগীকেই বহন করতে হবে। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার টাকা প্রয়োজন। সেই অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই পরিবারের।

জেবিয়ারের বাবা বিমল মুন্ডা পেশায় দিনমজুর। গতবছর থেকে অসুস্থ হওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না। মা এলিজাবেথ জুট মিলে কাজ করে দৈনিক শ’তিনেক টাকা উপার্জন করেন। বড় ভাই সেন্টারিংয়ের কাজ করেন। এভাবেই কোনওরকমে চলে পাঁচজনের সংসার। বনগাঁ স্টেডিয়ামে কোচ অভিজিৎ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করেন জেবিয়ার। কোচের কথায়- জেবিয়ারের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সাফল্য পাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কোচ থেকে শুরু করে পরিবারের সকলেই জেবিয়ারকে নিয়ে আশাবাদী।

Tags: খেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন