‘আমি সন্ন্যাসী নই’, হঠাৎ কেন বললেন মমতা?শুভেন্দু বললেন, ‘রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন…’
deshersamay

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন না তিনি। কালীঘাটের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে একাধিকবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। ‘চোর চোর’ স্লোগান শুনেছেন। এখন কোনও বার্তা দিতে হলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই লাইভ করেন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী তথা কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপিকে নিশানা করতে গিয়ে তিনি বললেন, “আমি সন্ন্যাসী নই।” কেন তিনি সন্ন্যাসী নন, সেই ব্যাখ্যাও দিলেন।

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিভিন্ন মিটিং, মিছিলের জন্য কালীঘাট তৃণমূল অনুমতি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে এদিন মমতা বলেন, “কোনও জায়গায় মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। হোটেল ভাড়া নিলে হোটেলের মালিককে ভয় দেখানো হচ্ছে।” আর সেকথা তুলে ধরেই তাঁর সংযোজন, “বিজেপির নেতারা যদি ভেবে থাকেন, আমাকে মিটিংয়ের অনুমতি দেবেন না তাই, আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব।
আমি সন্ন্যাসী নই। যাঁরা আসল সন্ন্যাসী হন, তাঁরা অনেক বড় সাধক হন। আমরা তো সন্ন্যাসীদের পায়ের তলায় পড়ে থাকি। আমরা দেব-দেবীদের শ্রদ্ধা করি। তাদের প্রতি বিশ্বাস, ভরসা আছে বলে। সর্বধর্মের উপর। কিন্তু, মনে রাখবেন, বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।”

এরপরই তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আপনাদের গ্রহণ লেগেছে। তাই আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। বলছেন, ‘আপনি এগুলো করবেন না’। মানুষ আপনাদের ৪ মাসেই বুঝে নিয়েছে।”

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও এদিন সরব হন মমতা। বলেন, “কেন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনা পাচ্ছেন না, তার লিস্ট পাড়ায় পাড়ায় জোগাড় করুন। আপনাদের সঙ্গে আমি রয়েছি।” এরপরই বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা ভান্ডার (যোজনা) ১ মাস দেবেন, ৩ মাস দেবেন না। পুজো পর্যন্ত বড়জোর দেবেন। তাও কিছু। সবাইকে নয়। দেখে দেখে দিচ্ছেন। চেখে চেখে দিচ্ছেন। বর্ণ দেখে দিচ্ছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার ফিরিয়ে দিন।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাণ্ডব করে এলেন। আমার সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কখনও কখনও হয়েছে। কিন্তু, আমি কখনও ওদের অশ্রদ্ধা করিনি। ছাত্রছাত্রীরা আমার বন্ধু। ওরা যখন অনশন করছিল আমি ছুটে গিয়েছিলাম।”

এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বেশ কিছু ঘোষণা করতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনি, বিকেলবেলায় ফেসবুকেই থাকুন। রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করব।’

পাল্টা মমতা জমানার দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ শুধু উন্নয়নের জন্য ভোট দেয়নি, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার জন্যও ভোট দিয়েছে।’ গত সরকারের আমলে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ছাড়া গত কয়েকদিনে নতুন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি মমতা। এর আগে বারুইপুরে এক নাবালিকা ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও কালীঘাটের বাড়ির সামনে বাড়তি পুলিশ প্রহরা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে হালিশহরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতা। পুলিশের লকআপে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর খোঁচা, ‘বারুইপুরে গোল খেয়েছেন, হালিশহরেও চেষ্টা করেছিলেন, সেখানেও গোল খেয়েছেন।’
