প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

নিউমার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড , মৃত এক শিশু-সহ ৯ বাংলাদেশি

deshersamay

Share article:

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি তার মধ্যেই কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। তখন অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধার করা হয় সকলকে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন ছয় জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, রাত ২টোর কিছু আগে হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে ।ধোঁয়ায় ঢাকে হোটেল
সূত্রপাত। প্রাথমিক ভাবে এসি বা শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড (Fire) হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তদন্তের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

হোটেলের ঘরগুলি দ্রুত কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা না গেলেও গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। আতঙ্কে আবাসিকেরা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ ছিল খুবই সরু। ফলে তাঁরা বেরতে পারেননি ঠিক মতো আর উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
রাতেই দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে জানা যাচ্ছে। হোটেলটি গলির ভিতরে হওয়ায় বড় গাড়ি নিয়ে বেশি ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে। পরে কর্মীরা ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন।

অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা ৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও থাকার কথা কারণ ওই এলাকায় মূলত বাংলাদেশের লোকজন এসে থাকেন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসা সূত্রে। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের একাংশ চিকিৎসার জন্যই কলকাতা এসেছিলেন। তবে প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিচয় নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চিকিৎসকদের প্রাথমিনভাবে অনুমান,অধিকাংশের মৃত্যু ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে থাকতে পারে। কয়েক জনের শরীরে পোড়ার চিহ্নও রয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হবে। আরও কয়েক জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর হোটেলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ম্যানেজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটির মালিক পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে ওই হোটেল থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। ওই হোটেলের কাছেই দমকলের সদর দপ্তর। খবর পেয়ে দমকলের কর্মীরা, নিউ মার্কেট থানার পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ধোঁয়ার জেরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে বেগ পেতে হয় দমকলের কর্মীদেরও। রাতে হোটেলের লিফট বন্ধ ছিল। সিঁড়ি সংকীর্ণ হওয়ায় আবাসিকদের বাইরে বোরোতে দেরি হয়। হোটেলে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে আবাসিকদের অভিযোগ।হোটেল থেকে ৬০ জনেরও বেশি আবাসিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মাত্র দু’দিন আগে তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং ১৫টি লাইসেন্সবিহীন হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
তার পরেই কলকাতার হোটেলে একই ভাবে প্রাণহানি নতুন করে প্রশ্ন তুলল অতিথিদের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বেরোনোর পথ নিয়ে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন