সাতসকালে মর্মান্তিক কাণ্ড! ট্রেনের ধাক্কা, স্কুল যাওয়ার পথে দুই পড়ুয়া-সহ তিন জনের মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ রেলের
deshersamay

স্কুল যাওয়ার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে দুই পড়ুয়া-সহ তিন জনের। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলায় আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের পরে গোবিন্দপুর রেলগেটে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটে তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে পূর্ব রেল। সেই সঙ্গেই ওই শাখায় ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, একটি গাড়িতে করে অন্য দিনের মতো স্কুলে যাচ্ছিল পড়ুয়ারা। শুক্রবার সকাল ৬.৪০ মিনিট নাগাদ হাওড়া ডিভিশনের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের পরে গোবিন্দপুর রেলগেটে ওই গাড়িতে ধাক্কা মারে ট্রেন। কাটোয়াগামী নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় দু’জন পড়ুয়া-সহ তিন জনের। ওই ঘটনায় গাড়ির চালক ও তিন জন পড়ুয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রেলগেট নামানো না থাকার কারণে ওই বিপত্তি ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে উত্তেজিত হয়ে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। রেলগেটের দায়িত্বে থাকা রেলকর্মী ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন থাকেন তাঁরা। পরে স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশ ওই রেলকর্মীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বহরমপুরে কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে প্রথমে একটি আপ ট্রেন যায়। গেট তুলে দেওয়ার পর ওই পুলকার যেতেই ট্র্যাকে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সেইসময় কোনও গেটম্যান ছিলেন না বলেই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে যায় আপ নবদ্বীপ ধাম এক্সপ্রেস ট্রেন। তখন গোবিন্দপুর রেলগেট নামানো হয়েছিল। এর পরে সকাল ৬.৪০ মিনিট নাগাদ নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন যাওয়ার সময়ে রেলগেট নামানো হয়নি। রেলগেট নামানো না থাকার কারণে ট্রেন আসবে না মনে করে স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে ওই গাড়ির চালক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এমন সময়ে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। ওই ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়ি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় দু’জন স্কুল পড়ুয়া-সহ তিন জনের। তার মধ্যে জামশেদ শেখ (৫০) নামে কান্দি থানার ডাবকই এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন আর যে দুজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে, তাদের বাড়ি বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর গ্রামে।খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার সময়ে রেলগেটের দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নাকি সেই সময়ে টয়লেট গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কার গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা তা তদন্ত করে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন রেলের আধিকারিকরা।

বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র জানিয়েছেন, এতগুলো পড়ুয়ার মৃত্যু মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। কী কারণে এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার প্রাণ গেল, তা রেলের তদন্ত করে দেখা উচিৎ। অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, রেলে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
অন্য দিকে, এই ঘটনার পরে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। রেললাইনের মধ্যে ওই গাড়িটি পড়ে থাকায়, আপ এবং ডাউন দু’টি লাইনের ট্রেনগুলিকেই বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

