Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

বাংলায় আইনের শাসনই লক্ষ্য!আজই বিধানসভায় পেশ ‘গুন্ডা দমন’ বিল , কোন অপরাধে কী শাস্তি?

deshersamay

Share article:

পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) এবং গুজরাতের (Gujarat) ধাঁচে অত্যন্ত কড়া আইন আনার পথে হাঁটল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার I

বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে আগ্রাধিকার বলে মনে করছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। এ জন্যআজ,  সোমবার বিধানসভায় একটি বিল পেশ করবে সরকার পক্ষ। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের মতে, সংগঠিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মোকাবিলায় বর্তমানে যেসব আইন রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’  মূলত একটি প্রতিরোধমূলক আটকের আইন। এই আইনের কাঠামো ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’-এর মতোই।

সাধারণ ফৌজদারি আইনের মতো, এই বিলের লক্ষ্য কেবল অতীতের অপরাধের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন কার্যকলাপ প্রতিরোধ করাও। এর আওতায় যে কাউকে আনা যেতে পারে, যদি তাদের কাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনমনে ভীতি বা জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে, কিংবা অবৈধ খনি বা বালি উত্তোলনের মতো ঘটনা ঘটায়। এমনকি বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধও এর অন্তর্ভুক্ত।

‘গুণ্ডা’ বা সমাজবিরোধী কারা?
‘গুণ্ডা’ বা সমাজবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, কোনও সিন্ডিকেট পরিচালনা বা তাতে টাকার জোগান দেন, অথবা সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহিত বা সহায়তা করেন, তবে তাকে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের দীর্ঘ তালিকা বা ‘হিস্ট্রি শিট’ রয়েছে, তাদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধে কোনও ব্যক্তিকে আটক করা প্রয়োজন বলে মনে করলে, সরকারের হাতে তাকে আটক করার ক্ষমতা থাকবে।
এছাড়া, এই আইনে মোতাবেক অপরাধকে ‘গ্রেপ্তারযোগ্য’ এবং ‘জামিন-অযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। আইনের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি, কোনও দাগী অপরাধী বা এলাকাছাড়া করার নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তিকে কেউ যদি আশ্রয় দেন বা লুকিয়ে রাখেন, তবে আশ্রয়দাতারও দু’বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।

জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বা তার ওপরের পদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে অথবা সরকারের নিজস্ব বিবেচনায় কোনও ব্যক্তিকে আটক করা যেতে পারে, যদি অতীতে সংগঠিত অপরাধের জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) -এর ১১১ ধারায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়ে থাকে।

সরকার, জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনারদের নির্দিষ্ট এলাকায় আটক সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দিতে পারে। তবে রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই আদেশ ১৫ দিনের বেশি কার্যকর থাকবে না। কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে।
আটক ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় সরকার এমন বিধান রেখেছে, যার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিকে- আটকের কারণ উল্লেখ করে আটকের আদেশের একটি প্রতিলিপি পাঁচ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

তবে তথ্য প্রকাশ করলে যদি গোপন সূত্রের পরিচয় ফাঁস হওয়ার বা জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে তথ্য গোপন রাখা হতে পারে।

একটি উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করা হবে যেখানে আটকের প্রতিটা ঘটনা তিন সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। এই বোর্ডে একজন সভাপতি থাকবেন যিনি হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি এবং দু’জন সদস্য থাকবেন যারা হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন। উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে, কোনও ব্যক্তিকে আটকে রাখা হবে- নাকি মুক্তি দেওয়া হবে।

‘এক্সটার্নমেন্ট’ বা এলাকা-বহিষ্কার সংক্রান্ত এই বিধানটি অপর দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে প্রচলিত আইনের মতোই। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও আটক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থাকার নির্দেশ দিতে পারে এবং এক বছর পর্যন্ত সেখানে ওই ব্যক্তির  প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.