ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার আর্জি ভুক্তভুগী কৃষকদের , সীমান্তে কতটা এলাকায় এখনও বাকি রয়েছে কাঁটাতার বসানো?
deshersamay


অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং আউটপোস্ট তৈরিতে বিএসএফ-এর হাতে আরও জমি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি স্থায়ী ভাবে বিএসএফ–কে হস্তান্তরের উদ্যোগী হয়েছে। আগের সরকারের গড়িমসির জন্য এ কাজ আটকে ছিল।

দেশের নিরাপত্তা ও নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হোক, এমনটাই চাইছে গাইঘাটার কৃষকরা।
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা ব্লকের ঝাউডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্ণবেড়িয়া থেকে আংরাইল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নেই কাঁটাতার। এলাকার সাধারণ মানুষ এই কাঁটাতার বিহীন এলাকায় রাতে আতঙ্কে থাকতেন ।

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে এসে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়া, ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার অভিযোগ উঠত। রাজ্য সরকারের নির্দেশের পরে কৃষকরা চাইছেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হোক । তাঁরা জমি দিতে ইচ্ছুক। দেশের সুরক্ষা ও নিজেদের নিরাপত্তার কারণে তাঁরা চাইছেন, যাতে দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু করা যায় সেই ব্যবস্থা করুক সরকার।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা জোরদার করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সম্প্রতি প্রায় ১৪৩ একরেরও বেশি জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করেছে এবং রাজ্য জুড়ে বেড়া বসানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কাজ চলছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারে মতো। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মতো।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করার জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন রাজ্য সরকার।
গত মাসে নবান্ন সভাঘরে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেই বৈঠকেই তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, তার মধ্যে কাঁটাতার রয়েছে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকায়। অর্থাৎ, এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কোনও কাঁটাতার নেই ।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে,এই ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে, যেখানে রাজ্য সরকার চাইলেই বিএসএফকে জমি দিতে পারত। কিন্তু বিএসএফকে জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বতন রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবটা স্পষ্ট ছিল ।


Leave a Reply