

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ক্লজ়ের অধীনে বি সাব-ক্লজ়ের ক্ষমতা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ৭মে থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলো বলে জানানো হয়েছে।

অবশেষে এল রাজভবনের সিলমোহর । আজ, ৭ মে ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদের শেষ দিন। আর নিয়ম মেনেই এদিন প্রথাগতভাবে রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি । পরিষদিয় দফতর থেকে এদিন গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ক্লজের (বি) উপধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী কি তবে পদত্যাগ করলেন?
এখানেই রয়েছে বড় টুইস্ট। সাধারণত বিধানসভা ভাঙার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের জল্পনা শুরু হয়, তবে এক্ষেত্রে তেমনটা ঘটছে না। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মাত্র। অন্তর্বর্তী সময় পার করে আগামী ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনে অনৈতিক ভাবে তাঁকে হারানো হয়েছে। ভোটগণনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দিলে, নতুন করে সরকার কী ভাবে শপথ নেবে? সেই আবহেই এ বার বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল।
পরবর্তী ধাপ কী?
বিধানসভা তো ভাঙল, এবার অধিবেশন বসবে কবে? সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরেই নতুন বিধানসভার অধিবেশন ডাকা হবে। তবে তার আগে রয়েছে এক গুচ্ছ প্রথাগত কাজ।
প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ:
অধিবেশন শুরুর আগে নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্য থেকে একজনকে ‘প্রোটেম স্পিকার’ হিসেবে বেছে নেবেন রাজ্যপাল। তাঁকে শপথ পাঠ করাবেন স্বয়ং রাজ্যপাল অথবা বিধানসভার সচিব।

স্পিকার নির্বাচন:
এরপরই শাসক দল বিজেপির মনোনীত প্রার্থীকে অধ্যক্ষ বা স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হবে এবং তাঁকে শপথ পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার। এর পরে যিনি অধ্যক্ষ হবেন তিনি রাজ্যপালকে আমন্ত্রন জানাতে পারে, অথনা নিজে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বিধানসভার সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপরে কাজ শুরু করবে পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভা।

আদর্শ আচরণবিধি প্রত্যাহার
এদিকে আজই দিল্লির নির্বাচন সদন আদর্শ আচরণবিধি সংক্রান্ত খবর এসেছে। আন্ডার সেক্রেটারি প্রফুল্ল অবস্থি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪-ফলতা কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ থাকায় সেখানে এখনই বিধি উঠছে না। রাজভবনের এই গেজেট নোটিফিকেশনের পর এখন লক্ষ্য আগামী ৯ তারিখ। ওইদিন শপথ গ্রহণের পরেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও সংসদীয় কাঠামো ফের পূর্ণ উদ্যমে সচল হবে।



