ইরানে স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি মার্কিন সেনার ,৩৫০০ সৈন্য নিয়ে  আমেরিকার উভচর রণতরী পৌঁছোল পশ্চিম এশিয়ায়!

0
65

ইরানে এবার স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন সেনা সদর পেন্টাগন। ‌স্থল বাহিনীরসাড়ে তিন হাজারের বেশি সৈন্য নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকার রণতরী ইউএসএস ট্রিপোলি। এটি ‘উভচর’ আক্রমণে সিদ্ধ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, গত ২৭ মার্চ এই রণতরী পশ্চিম এশিয়ায় সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীন এলাকায় (এরিয়া অফ রেসপন্‌সিবিলিটি) পৌঁছেছে। তাতে নাবিক এবং নৌসেনারা রয়েছেন। এ ছাড়াও, পণ্য পরিবহণ এবং আকাশপথে আক্রমণে সক্ষম যুদ্ধবিমান এই রণতরীতে রয়েছে।

মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের এই খবর নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন এই খবরের সত্যতা নিয়ে কোনও সংশয় প্রকাশ করেনি। বরং ঘটনা প্রবাহ যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে ইরানে মার্কিন পদাতিক সেনার পদার্পণ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইরাকের পর ইরানেও দীর্ঘ মেয়াদের যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা, এমনটাই মনে পড়ছে ওয়াকিবহাল মহল।

সে ক্ষেত্রে ইরানের মাটিতে ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অপেক্ষা করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ‌গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা শুরুর পর এখনও পর্যন্ত আকাশ পথে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে দুই পক্ষ। ইরান সরাসরি আমেরিকাকে আঘাত করতে না পারলেও আরব ভূমিতে তাদের মিত্র দেশগুলিতে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দশ হাজার সেনা পাঠানো সিদ্ধান্ত নেন।

এরই মধ্যে খবর এসেছে ইরানের মাটিতেই নামবে মার্কিন সেনা। সেদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে তারা সীমিত মাত্রার অভিযান চালাতে চায়। ‌ মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা, যেভাবে প্যালেস্টাইনে ইসরাইল বাহিনী প্যালেস্টাইন লিবারেশন আর্মিকে প্রর্যুদস্ত করেছে।‌

এমন সম্ভাবনা আঁচ করে ইরানি প্রশাসন ইতিমধ্যেই সে দেশের নাগরিকদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বয়সসীমা কমিয়ে দিয়েছে। এতদিন বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বয়সসীমা ছিল ১৮ বছর। অর্থাৎ ১৮ পেরলেই যুদ্ধে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন সম্মুখ সমরের সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় সেই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনারা ইরানের মাটিতে নামলে তাদের সে দেশের অস্ত্রধারী শিশুদের মুখোমুখি হতে হবে এমন সম্ভাবনা প্রবল। ‌ সবমিলিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর ঘিরে এখন গোটা বিশ্ব আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিচলিত।

তবে পেন্টাগনের পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে এখনো মুখ খোলেননি। ‌তবে সাত দিন আগে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন শান্তি প্রস্তাবে সায় না দিলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্পের সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে।

মার্কিন রণতরী ট্রিপোলি একাধিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করতেও সক্ষম। এর আগে এই রণতরী জাপানের বন্দরে রাখা ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে সেখান থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দেয় ট্রিপোলি। সূত্রের খবর, ইউএসএস বক্সার-সহ আরও কয়েকটি সমুদ্রযান ওই এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনীর পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানে ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো দাবি করেছেন, ইরানে স্থলপথে সেনা পাঠাতে চান না তাঁরা। এই মুহূর্তে তার প্রয়োজনয়ীতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, তাঁর মতে ইরানে আমেরিকার লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রুবিয়ো।

এদিকে আমেরিকা যখন নব উদ্যোগে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন তখন ইরানের সাবেক ও সর্বশেষ শাহ–এর পুত্র রেজা পাহলভী আমেরিকার টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে অনুরোধ করেছেন তিনি যেন ইরানের বর্তমান শাসকদের সঙ্গে কোনও ধরনের শান্তি চুক্তি না করেন।‌ তার মতে শান্তি চুক্তি না করলে সেটাই বড় হবে আমেরিকার জন্য মঙ্গলদায়ক।

Previous articleবাংলায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট পেশ’ শাহের
Next articleমেয়ের সামনেই মাকে কুপিয়ে খুন ,কসবায় হাড়হিম করা কাণ্ড!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here