


আস্থা ভোটের আগেই তৃণমূল পরিচালিত উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুরসভার পুরপ্রধান থেকে পদত্যাগ করলেন গোপাল শেঠ।

জানা গেছে,বুধবার বেলা ১২টায় আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বনগাঁ পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে ই-মেল মারফত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। নিজের ইস্তফাপত্রে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন গোপাল শেঠ।

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর গোপাল শেঠকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন তিন কাউন্সিলার।
দেখুন ভিডিও
বনগাঁ পুরসভার পুরপ্রধান থেকে পদত্যাগ করলেন গোপাল শেঠ , কটাক্ষ বিজেপি নেতার ,কী বললেন শঙ্কর আঢ্য : দেখুন ভিডিও
গোপালের দাবি ছিল, পুরসভার অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না আঢ্য তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। সেই বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেননি। পাশাপাশি কেন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন গোপাল।
এ দিকে পুরসভার পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হলে গোপালের জয়ের সুযোগ ছিল খুবই ক্ষীণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের।

বনগাঁর পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরোধী হিসেবে পরিচিত তিন কাউন্সিলার কৃষ্ণা রায়, নারায়ণ ঘোষ এবং জোৎস্না আঢ্য । বনগাঁ পুরসভার পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে জটিলতা কাটাতে আস্থা বৈঠকের ডাক দেন এই তিন কাউন্সিলার।
১০ ডিসেম্বর বুধবার বনগাঁর রূপসী বাংলা প্রেক্ষাগৃহে আস্থা বৈঠক এর ডাক দেন ওই তিন কটিন্সিলর। সেই সংক্রান্ত নোটিস ইতিমধ্যে সমস্ত কাউন্সিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণা রায়।

বুধবার সকালেই পুরপ্রধান হিসেবে নির্বাহী আধিকারিক এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন বনগাঁ পুরসভার প্রধান গোপাল শেঠ। এরপরেই তৃণমূলের কাউন্সিলরেরা বিজয় মিছিল করে। বনগাঁ পার্টি অফিস থেকে বাটার মোড় পর্যন্ত এই মিছিল যায়। পুরসভায় শেষ হয় সেই মিছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ ব্যাপারে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানান, ‘গোপাল শেঠের অনেক আগেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতেই হলো। তবে এতে নিজের ভাবমূর্তিটাই নষ্ট করেছেন গোপাল শেঠ। আজ মানুষের যে উচ্ছ্বাস ছিল তাতেই বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করবে। পুরপ্রধান হিসেবে গোপাল শেঠ যে ব্যর্থ, তা বনগাঁর মানুষের কাছে পরিষ্কার। আজ কাউন্সিলরেরা অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটিতে অংশ নিচ্ছেন। যতক্ষণ না নতুন পুরপ্রধান নির্দিষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ পুরসভার আধিকারিকেরা পুরসভা পরিচালনা করবেন।’
শাসক দলের আভ্যন্তরীণ এই ডামাডোলে পুর পরিষেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে গোপাল শেঠের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘বনগাঁ বাসী এতদিন ধরে সার্কাস দেখল। পুরসভায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ মানুষের চোখে পড়ার মতো । নিজেদের পুর প্রধানকে সরিয়ে যেভাবে উল্লাস করতে দেখা গেল তা প্রমাণ করে এরা নিজেরাই ঘর-শক্র বিভিষণ ।’

এ দিকে পুরসভার পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হলে গোপালের জয়ের সুযোগ ছিল খুবই ক্ষীণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের।



