Joka IIM Boys Hostelকসবার পর আইআইএম জোকা! এবার ছাত্রীকে বেহুঁশ করে ‘ধর্ষণ’ বয়েজ় হস্টেলে, দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ

0
274

ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় প্রশ্ন। কসবা আইন কলেজের পর এবার জোকায় আইআইএম কলকাতার বয়েজ হস্টেলেই  এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র কাউন্সেলিংয়ের নাম করে সহপাঠী ছাত্রীকে হস্টেলে ডেকে খাবারে মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে ধর্ষণ করে।

নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। ধৃত ছাত্রের নাম পরমানন্দ। কর্ণাটকের বাসিন্দা, আইআইএম-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে ওই ছাত্রীকে বয়েজ হস্টেলের ভিজিটর্স রুমে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। সেখানেই তাকে ঠান্ডা পানীয় ও কিছু খাবার দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই পানীয় খেয়েই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।

প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় নির্যাতিতা অভিযোগ দায়ের করতে যান। সেখানে পুলিশ তাঁকে হরিদেবপুর থানায় যেতে বলে। কারণ আইআইএম জোকা ওই থানার অন্তর্গত। পুলিশের সহায়তাতেই শুক্রবার হরিদেবপুর খানায় গিয়ে অভিযুক্ত পড়ুয়ার নামে অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। তার পর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৪ এবং ১২৩ ধারায় মামলা রুজু করেছে। নির্যাতিতার বয়ান ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এক ছাত্রী রেজিস্টারে সই না করেই বয়েজ হস্টেলে ঢুকে পড়লেন? কী করছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা? নাকি অভিযুক্ত প্রভাবশালী? গোটা ঘটনায় রক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জুন। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৭ জুন। কলেজের ইউনিয়ন রুমে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা। পরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে। রক্ষীকে সেই সময়ে বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক জন, যাঁকে ‘এম’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি কলেজের প্রাক্তনী। বাকি দু’জন (‘জে’ এবং ‘পি’ হিসাবে চিহ্নিত) এখনও কলেজে পড়াশোনা করছিলেন। ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা কলেজের রক্ষীকেও পরে গ্রেফতার করা হয়। সিটের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত করছে।

কসবা আইন কলেজে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় হয় রাজ্য। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআইএম কলকাতার হস্টেলে ফের ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল শিক্ষাঙ্গনে।

আইনশৃঙ্খলা এবং মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের একাধিক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চুপ করে থাকা আর চলবে না, এমনটাই মনে করছেন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাবশালীর তত্ত্ব উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কলেজের ভেতরে অভিযুক্তর প্রভাব কী রকম ছিল, তদন্তে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্তার প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

Previous articleবালোচিস্তানে বাস থেকে নামিয়ে খুন ৯ জন ‘পাকিস্তানি’ যাত্রীকে! নেপথ্যে কোন সংগঠন? ধন্দ
Next articleAir India Plane crash report 10 pointsঠিক কী কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, তদন্ত রিপোর্টে মূল যে বিষয়গুলি জানা গেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here