Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

অভিষেকের ‘গুন্ডা’ মন্তব্যে নিঃশর্তে ক্ষমার জন্য আইনি নোটিস দিলেন ক্ষুব্ধ দিলীপ ঘোষ

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ ভাইপো’ ডাক নিয়ে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির খোঁচা, তার পর তৃণমূলের পাল্টা উত্তরে সম্প্রতি ‘ভাইপো’ সম্বোধন নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আর তা নিয়েই মুখ খুলেছেন গেরুয়া শিবিরের নিশানায় থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। রবিবার বিকেলে নোদাখালির মুচিশা হাইস্কুল মাঠের সভায় তিনি বলেন, ‘ভাইপো বলে বারবার আমাকে ডাকা হয়েছে। যে ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে বারবার ভাইপো বলে ডাকছে, তাদের সাহস থাকলে আমার নাম ধরে ডাকুক।’ সেইসঙ্গে বিজেপি নেতাদের তিনি নাম ধরে ধরে রীতিমতো আক্রমণ শানান। দিলীপ ঘোষের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার নাম ধরে বলছি  দিলীপ ঘোষ গুণ্ডা!’ সেই প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ রবিবার বলেছিলেন, ‘আমি গুণ্ডাই, যাঁদের সঙ্গে গুণ্ডামি করতে হয়, তাঁদের সঙ্গে গুণ্ডামি করি।’ যদিও সোমবারই এ নিয়ে অভিষেককে আইনি নোটিশ পাঠালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

ওই নোটিশে দিলীপ ঘোষের পক্ষ থেকে অভিষেকের সমালোচনা করে তাঁকে নিঃশর্তে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ও দুঃখপ্রকাশের জন্যে ৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। যদি অভিষেক তা না করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আগামীদিনে আইনি ভাবে আরও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও অভিষেকের মন্তব্যের সমর্থনই করা হয়েছে। এদিন তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ‘অভিষেকের সৎসাহস আছে তাই মঞ্চ থেকে এমন কথা বলতে পেরেছেন। গুন্ডামি মানুষ সিনেমায়, যাত্রায় বা নাটকে দেখতে ভালোবাসে কিন্তু নিজের এলাকায় দেখতে অভ্যস্ত নন। বাংলার মানুষ গুণ্ডাদের এখানে আমদানি করবে না৷

সম্প্রতি ‘ভাইপো’ ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ২১ নভেম্বর এ রাজ্যের দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় অভিষেককে ‘ভাইপো’ বলে নিশানা করেছিলেন। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পরের দিনই সাংবাদিক বৈঠকে জবাব দেন, ‘ভাইপো না-বলে, হিম্মত থাকলে নাম করে রাজনৈতিক সমালোচনা করুন।’ রবিবার অভিষেক নিজেই বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারে এসে ডায়মন্ড হারবারে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ভাতিজা কা বত্তি গুল হোনেওয়ালা হ্যায়। বিজেপির ছোট, বড় ও মাঝারি নেতারা একটাই বলে ভাতিজা বা ভাইপো। কিন্তু মুখে নাম নিতে পারে না। আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার নাম নিয়ে কথা বলার মতো বুকের পাটা ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীরও নেই। আর বিজেপির ছোট, বড়, সেজো ও মাঝারি নেতাদেরও নেই।’ এখানেই না-থেমে অভিষেকের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, ‘কংগ্রেস-সিপিএম-বিজেপি- সবার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ভাইপো। কিন্তু কেউ নাম নিতে পারে না। আপনাদের বুকের পাটা থাকলে ভাববাচ্যে কথা না-বলে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে দেখান। যিনি আমার নাম নিয়ে মিথ্যে কথা বলেছেন, তাঁকে আমি আদালতের রাস্তা দেখিয়েছি। তাই বলছি, যদি সাহস থাকে, তা হলে আমার নাম নিয়ে বলুন৷

তিনি যে বিজেপি-সহ বিরোধীদের থেকে আলাদা, তা বোঝাতে এর পরে একেবারে নাম ধরে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর আক্রমণ, ‘আমি তো নাম করে বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। আমি নাম করে বলছি, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ গুন্ডা, মাফিয়া। আমি তো নাম করে বলছি, অমিত শাহ ও সুনীল দেওধর বহিরাগত। আমি নাম করেই বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয় গুন্ডা। আপনাদের ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দেখান।’

অভিষেকের এই কথার পাল্টা জবাব দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতিও। দিলীপ বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ গুন্ডা, তাতে আপনার কী যায়-আসে! এত দিন আপনারা গুন্ডামি করেছেন। এ বার আমার গুন্ডামিটা দেখুন। আমার সময় এসেছে। প্রয়োজন পড়লে গুন্ডামিই করব। পারলে ঠেকান।’ ‘ভাইপো’ ইস্যুতেও অভিষেকের হুঁশিয়ারির জবাব দিয়েছেন দিলীপ। বলেছেন, ‘আমাদের কত দম আছে, সেটা ডিসেম্বরের মধ্যে দেখিয়ে দেব। আগে নিজের ঘর সামলাক ওরা। আর এফআইআর হবে কি না, সময়ই সব বলবে।’ এরপর সোমবার আইনি নোটিশ পাঠালেন অভিষেককে৷

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন