Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

মানবিক:একটা ফোন কল আসতেই, অসহায় মানুষের কাছে ছুটচ্ছেন বনগাঁ থানার আইসি মানস চৌধুরি

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ দেশ জুড়ে লকডাউন এর কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে ইতি মধ্যেই। আর এই চরম করোনা সংক্রমণের দুঃসহ সময়ে- যাদেরকে নিয়ে সাধারণভাবে ছিটেফোঁটাও ভাবার কেউ নেই, তাঁদেরই পাশে দাঁড়িয়েছেন বনগাঁ থানার আইসি মানস চৌধুরি।

পুলিশের নিত্যদিনের কাজের পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে দিনরাত এক করে তাঁর দপ্তরের সহযোদ্ধাদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
করোনা সবে যখন একটু একটু করে থাবা বসাতে শুরু করেছিল , তখনও সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা হয়নি।সেই সময়ই পরিস্থিতি মোকাবিলার গুরুত্ব আগাম বুঝতে পেরে থানার ভেতরেই সিভিক ভলান্টিয়ার–সহ অন্য পুলিশকর্মীদের নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নেন আইসি। ১০০ মিলিলিটারের ৫০০ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে নিজেই তা পরিবহণ শ্রমিক, বাসযাত্রী, পথচলতি মানুষদের মধ্যে বিলি করেন। সঙ্গে মাস্কও।

লকডাউন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহকর্মীদের নিয়ে নিজের থানা এলাকার বয়স্ক মানুষদের একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করেন। তাঁদের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করে সেই নম্বর তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।তিনি সব সময় সজাগ থাকছেন কারো ফোন এলেই দ্রুত ব্যাবস্থা নিতে ছুটছেন তাঁর সঙ্গে থাকচ্ছেন সহ যোদ্ধারাও৷ উদ্দেশ্য একটাই, লকডাউন চলাকালীন যে কোনও প্রয়োজনে তাঁরা যেন ফোন করে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

ইতিমধ্যেই সেইসব মানুষের কয়েকজনের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তাঁদের কাছে খাবার, বাজার, ওষুধ পৌঁছে দেবার পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবারও ব্যবস্থা করেছেন আইসি।

শুধু তাঁরাই নয়, তাঁর এই সহযোগিতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ২৫ জন পুলিশকর্মী, যারা তাঁর থানা এলাকার বাসিন্দা। এই মানুষদের দৈনিক সুবিধা অসুবিধার ব্যাপারে খোঁজ রাখার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এই তালিকায় রয়েছে একসময় পাচার হয়ে যাওয়া এমন ৯ জন মহিলা,তাঁদেরও খাবারের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। মহকুমায় তাঁর থানায় প্রথম পুলিশকর্মীদের নিয়ে রক্তদান শিবির করেছেন।


বনগাঁর শক্তিগড় এলাকার বাসিন্দা, পেশায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কলকাতার আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে জানা যায় যে, তিনি করোনা আক্রান্ত নন। বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর পরিবারকে একপ্রকার একঘরে করে দেন এলাকার মানুষ। বাড়ি থেকে পরিবারের কোনও সদস্যকে বের হতে পর্যন্ত দিচ্ছিলেন না এলাকার মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে খবর পেয়ে আইসি তাঁর সহকর্মীদের পাঠিয়ে বাড়ির বাচ্চার দুধ, বয়স্কদের ওষুধ কেনা, বাজার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এলাকার মানুষকে সচেতন করেন। পরে প্রতিবেশীরা তাঁদের ভুল বুঝতে পারেন। করোনা পর্বে এই ঘটনা সবথেকে বেশি মনে দাগ কেটেছে আইসি মানস চৌধুরির।তাঁর কথায় মানুষের জন্য কিছু করতে হলে বেশি ভেবে লাভ নেই ঝাপিয়ে পড়তে হবে। এখন একটাই মিশন প্রাণ বাঁচাও৷

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.