Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

৮০ হাজার দর্শকের সামনে মৃত্যুদণ্ড দিল ১৩ বছরের কিশোর ,উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ

deshersamay

Share article:

স্টেডিয়ামে উপচে পড়ছে ভিড়। সবাই চিৎকার করছে, হাততালি দিচ্ছে, যেন কোনও উৎসব চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধীর পায়ে মাঠে ঢুকল ১৩ বছরের কিশোর।

উপচে পড়ছে ভিড়। স্টেডিয়ামে তিল ধারনের জায়গা নেই। বাইরে পাহাড়ের ঢালে, গাছের মাথাতেও চড়ে বসেছেন কেউ কেউ। সবার নজর সামনের মাঠের দিকে। মাঠের ঠিক মাঝখানে হাঁটু মুড়ে বসে রয়েছেন এক যুবক। মাথায় কালো কাপড়। দুই হাত পিছন দিকে বাঁধা। তাঁর থেকে চার-পাঁচ হাত দূরে দাঁড়িয়ে এক কিশোর। বয়স মাত্র ১৩ বছর। তার ভালো করে গোঁফের রেখা ওঠেনি এখনও।

এক বয়স্ক ব্যক্তি কিশোরের কানে কানে কিছু বললেন। দৃঢ় ভাবে মাথা নাড়ল কিশোর। বোঝা গেল, ওই ব্যক্তির কথায় সে রাজি নয়। মাথা নাড়িয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেলেন ওই বয়স্ক ব্যক্তি। পরক্ষণেই গর্জে উঠল কিশোরের বন্দুক। গুড়ুম, গুড়ুম, গুড়ুম। পরপর পাঁচটা গুলি। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন হাঁটু মুড়ে বসে থাকা যুবক। উল্লাসে চিৎকার করে উঠল উপস্থিত জনতা।

মাঙ্গল নামে এক যুবককে এ ভাবেই প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে। আর তা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। জল্লাদ ১৩ বছরের ওই কিশোর। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব।

ঘটনার সূত্রপাত, ১০ মাস আগে। খোস্তের আবদুল রহমান-সহ তাঁর পরিবারের ১৩ জন সদস্যকে গুলি করে খুন করেন মাঙ্গল। তার মধ্যে ৯ শিশুও রয়েছে। ঘটনাচক্রে বেঁচে যায় ওই কিশোর। মঙ্গলবার তার হাত দিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল তালিবান সরকার।

আফগানিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পরেই মাঙ্গলকে গ্রেপ্তার করে আফগানিস্তানের পুলিশ। শুরু হয় বিচার। প্রথমে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন মাঙ্গল। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মাঙ্গল সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু লাভ কিছু হয়নি। আফগানিস্তানের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরাও নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখে।

ইসলামিক আইনে নিহতের আত্মীয়দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার রীতি রয়েছে। দোষীকে তাঁরা যদি ক্ষমা করে দেন তা হলে সাজা রদ হয়। কিন্তু আবদুল রহমানের আত্মীয়রা মাঙ্গলের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতেই অনড় থাকেন। শেষে মৃত্যুদণ্ডে অনুমোদন দেন তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে আবদুলের পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্য ওই কিশোর। গুলি চালানোর ঠিক আগে তাকে বলা হয়েছিল, এখনও ক্ষমা করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কিশোর রাজি হয়নি। সে সরাসরি ‘না’ বলে দেয় বলেই আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি রিচার্ড বেনেট। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু অমানবিক এবং নিষ্ঠুর নয়, আন্তর্জাতির আইনের পরিপন্থীও।’ তবে সব কিছু আইন মোতাবেক হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালিবান সরকারের মুখপাত্র মোস্তাঘফির গোরবাজ।

২০২১ সালে আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পরেই শরিয়া আইন চালু করেছিল তালিবান সরকার। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি। তালিবান সরকারকে এই ধরনের শাস্তি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। একাধিক মানবাধিকার সংগঠনও এমন শাস্তির নিন্দা করেছে। তবে তালিবান সরকার যে এই সব অনুরোধ, আর্জিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না সেটা স্পষ্ট।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.