Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে কেন্দ্র বলবে’,তবে ২১ মে পর্যন্ত সাবধানে থাকুন মুখ্যমন্ত্রী

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েব ডেস্কঃ লকডাউনের মেয়াদ আরও কতদিন বাড়বে তা নিয়ে যখন সব স্তরে কৌতূহল ও উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বলেন, “আমি চাই আগামী ২১ মে পর্যন্ত সবাই সাবধানে থাকুক। কারণ ওই দিন পর্যন্ত ৪৯ দিন হচ্ছে (২৫ মার্চ থেকে শুরু করে লকডাউনের ৪৯ দিন)”।

এদিন নবান্নে প্রেস কনফারেন্সে এ কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিক ভাবেই তখন প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি লকডাউনের মেয়াদ ২১ মে পর্যন্ত বাড়ছে? জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো তা বলিনি। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে কেন্দ্র ঘোষণা করবে। আমি শুধু বলেছি ২১ তারিখ পর্যন্ত সবাই যেন সাবধানে থাকেন।”

যার অর্থ ঠিক আরও কতদিন লকডাউন চলবে সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট জবাব সোমবার কেন্দ্র বা রাজ্যের তরফে পাওয়া যায়নি। দু’জনেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মাত্র। এবং এটা অন্তত বোঝা গিয়েছে, হটস্পট তথা রেড জোনগুলিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ছেই। এবং ওই এলাকাগুলি রেড থেকে অরেঞ্জ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কঠোর ভাবেই লকডাউনের শর্ত মানা হবে। কোনও কিছু শিথিল করা হবে না। আবার যে এলাকা বা জেলাগুলো গ্রিন জোন, অর্থাৎ যেখানে সংক্রমণ এখনও ছড়ায়নি সেখানে, আরও কিছু দোকানপাট খোলা এবং কাজকর্মে অনুমতি দিতে পারে কেন্দ্র।

যদিও এই সব নিয়মকানুন ঘোষণা নিয়ে কেন্দ্র বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে সোমবার প্রকারান্তরে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্র হঠাৎ হঠাৎ একটা করে সার্কুলার দিচ্ছে। বলছে লকডাউন খুব শক্ত করে করতে হবে। খুব কড়া হতে হবে। যাতে কেউ বেরোতে না পারে। আবার বলছে.সব দোকান খুলে দাও!” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই দোকান খুলুক, বিজনেস চলুক। দোকান খুললে তো লোক বেরোবে। তখন আমি লোককে কী বলব? লোকে রাস্তায় বেরোলে লকডাউন ব্যর্থ হবে। সিদ্ধান্ত তো একটা হবে। হয় তালা দাও নয় চাবি খোলো। কেন্দ্রের কথায় কোনও ক্ল্যারিটি নেই।”

প্রসঙ্গত, লকডাউনের দ্বিতীয় দফায় গত ২০ এপ্রিল থেকে কেন্দ্র শর্ত সাপেক্ষে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। তারপর দু’দিন আগে আরও কিছু ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে শর্তও রাখা হয়েছে। কোন এলাকায় কী ধরনের দোকান খোলা যাবে বা যাবে না। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কাছে এ ব্যাপারে পরিষ্কার জানতে চাওয়া হবে। মুখ্যসচিব চিঠি দিয়ে জানতে চাইবেন, কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার থেকে। তারপর পরশু দিন নবান্ন সিদ্ধান্ত জানাবে।

রাজ্য বিজেপির অনেক নেতার অভিযোগ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে, তথা লকডাউন সফল করতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে যাওয়ায় এখন মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় নেমেছে তারা। এখন দোকান খোলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাগ হচ্ছে, কিন্তু বাংলায় তিনিই তো পান, মিষ্টি, ফুলের বাজার—একটার পর একটা খুলে দিয়েছেন। তখন এই বোধ সরকারের কোথায় ছিল? বিজেপি মুখপাত্ররা বলেন, গ্রিন জোনে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করায় ক্রমশ ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই সিদ্ধান্ত মানুষের স্বার্থেই নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এদিন ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, সেখানে একাধিক রাজ্য এদিন লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। যদিও এদিনের বৈঠকে বাংলার বলার সুযোগ ছিল না। তা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “তিনঘণ্টা বোবা-কালার মতো বসে রইলাম। বলতে পারলে ভাল হতো। সমস্যাগুলো জানাতে পারতাম।” কেন্দ্রীয় দলের বাংলায় আসা নিয়ে এদিনও সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “সকালে মুখ্যসচিবকে ডাকছে, দুপুরে স্বরাষ্ট্রসচিবকে ডাকছে, বিকেলে স্বাস্থ্যসচিবকে ডাকছে। আমার অফিসাররা হাজিরা দেবে না কাজ করবে।”

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.