মিছিল করে মনোনয়ন পেশ করলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
3

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে এসে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘পরে নাম তুলে কী হবে? ভোটটাই তো দিতে পারবে না।’

বুধবার সকালে কালীঘাটের বাড়ি থেকে মিছিল করে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছন মমতা। সেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা সন্দীপ বক্সী। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন ফিরহাদের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ।

বেলা ১১টা ২০ নাগাদ মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরোন মমতা। তার পর স্থানীয় মানুষ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ছোট থেকে এখানেই আছি। এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। এই জায়গাই আমার ধর্ম, কর্ম, আন্দোলনের জায়গা। ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ। আমার নমস্কার।’ এদিন কালীঘাট থেকে আলিপুর পর্যন্ত বিরাট মিছিল করে তৃণমূল-কংগ্রেস৷

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা অ্যাডজুডিকেশন আছে তারা জেনুইন ভোটার। তারা ট্রাইব্যুনালে যাবে এবং তাদের নাম তোলা হবে। তবে এখনও কেন এত দেরি হচ্ছে তা নিয়ে আমরা ফের ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করব।”

সকালে মমতা মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁরা। তাঁদের দিকে হাত নাড়তে নাড়তে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। মনোনয়নের সময়ে যেমন হেঁটেই এসেছিলেন, তেমন হেঁটেই ফিরলেন মমতা।

সকলকে একসঙ্গে নিয়ে হেঁটে, সম্প্রীতি, ঐক্যবদ্ধতার ছবি তুলে ধরলেন মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই। ফেরার পথে বলেন, ‘আজও প্রোগ্রাম আছে। এখন রোজই কর্মসূচি থাকবে।’

প্রসঙ্গত, মমতা দাঁড়াবেন নিজের গড়েই। প্রার্থী নাম ঘোষণার আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল তা। মমতার বিপরীতে এবার বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার মমতার মনোনয়নে হাজির ছিলেন এলাকার ভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ।

এর আগে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মীসভায় অভিষেক ব্যানার্জি জানিয়েছিলেন, কলকাতার মধ্যে প্রথম হতে হবে ভবানীপুরকেই। স্থানীয় নেতৃত্ব বলছে, জয়ের ব্যবধান বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।

Previous articleবাগদায় পদ্মের পথে কাঁটা! নির্দল প্রার্থী দুলাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here