

বনগাঁ : নির্বাচনের আবহে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মঙ্গলবার বনগাঁয় নির্বাচনী সভা থেকে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এ বাদ যাওয়া ৯০ লক্ষের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ৩২ লক্ষ নাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি প্রায় ৩২ হাজার নামও নির্বাচনের আগেই ভোটার তালিকায় তোলা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।এমনকী ঠাকুরবাড়ির মধ্যে বিভেদের বীজ পুঁতে ভোটের ময়দানে ফায়দা তোলা নিয়েও বিজেপিকে দোষারোপ করেন তিনি।

এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গে তুলে মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের বিরুদ্ধে বিজেপির চক্রান্তের কথা তুলে ধরেন। এ দিন তিনি বনগাঁ উত্তর ও বনগাঁ দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস ও ঋতুপর্ণা আঢ্যর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার সারেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই সভা শুরু করেন তৃণণূল নেত্রী। মঞ্চে উঠেই সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক সভায় যোগ দিতে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের জন্য সময় এগিয়ে আনতে হয়েছে।
সভা শুরুর পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিশানা করেন নির্বাচন কমিশনকে। বলেন, “এসআইআর-এর নামে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ৩২ লক্ষ নাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের নাম তুলতে ট্রাইব্যুনালে যাব। বাকি নামও নির্বাচনের আগেই ফেরানো হবে।” তৃণমূল নেত্রী বলেন, “মতুয়া থেকে শুরু করে হিন্দু-মুসলিম, সবাইয়ের পাশে আমরা আছি।”

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “ভোটের সময় কেউ যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চায়, ভুলেও দেবেন না। কালো টাকা ঢুকিয়ে পরে ইডি-সিবিআই পাঠানো হতে পারে।”
ভোটে বাধা এলে কী করতে হবে? সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “সোনার ঝাড়ু নয়, বাড়ির ঝাড়ু দিয়েই রাস্তা পরিষ্কার করে দিন। ওদের বিশ্বাস করা আর গোখরা সাপকে বিশ্বাস করা একই।”
রাজ্য সরকারের একাধিক সরকারি প্রকল্পের খতিয়ানও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা ও তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘যুবসাথী প্রকল্প’-এর বকেয়া আবেদনকারীদেরও দ্রুত অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ দক্ষিণের প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য, গাইঘাটার প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস, বাগদার প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর এবং রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাক

-সহ একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব।বক্তব্য শেষে মুখ্যমন্ত্রী ডংকা কাশি নিশান হাতে মতুয়া ও আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে মঞ্চে নিত্য পরিবেশন করেন। সভায় সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেখুন ভিডিও

এই হয়রানির যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। ভোটার হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে অসম্মান করেছে বিজেপি। আপনারাও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এই অসম্মানের বদলা নিন। গণতন্ত্রের মাধ্যমে একটা করে ভোট দিয়ে বদলা নিন। যাতে বাংলা দখল করতে না পারে।’

মতুয়াদের অধিকার রক্ষা সরব তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, ‘যেন চৈত্র মাসের সেল চলছে! একজনের নাম আছে, একজনের নেই। সব বোঝাপড়ার খেলা। বিজেপি-সিপিএম সব বোঝাপড়া করে রেখেছে। একটি ভোটও অন্য পার্টিকে নয়। নিজে বাঁচার জন্য ভোটটা তৃণমূলকে দিন। মতুয়াদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার চেয়ে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না। এই যুদ্ধে আমি যোদ্ধা। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নাম তোলার চেষ্টা করে যাব। নাম কেটে ভোট লুট করবে? বাংলা দখল করার জন্য বড্ড হ্যাংলা হয়েছে। আজ আমি দুঃখিত, মর্মাহত। মাদার টেরিজার মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ৩০০ জনের নাম কেটেছে। বেলুড়-রামকৃষ্ণ মিশনের সদস্যদের নামও বাদ পড়েছে। বড়রা অন্যায় করলে গালে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দিতে হবে।’

মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে ঠাকুর পরিবারে বিভাজন নিয়েও সরব হন মমতা। বিজেপির উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল নেত্রীর সংযোজন, ‘যারা আজ ঠাকুর পরিবারে বিভেদ করে ভাবছে ভোটের রাজনীতি করবে, আমি তাদের সাবধান করছি, বেশি কথা বলবেন না। অনিল আম্বানির কেসে কার কার নাম আছে জানি। শুধু বিজেপি করো বলে তোমাদের ঘরে ইডি-সিবিআই আসে না। তৃণমূল করলে কিছু না করলেও ইডি-সিবিআই আসে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মুখোশ খুলে দেব।’



