

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যাতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার রাজ্যের সমস্ত জেল ও সংশোধনাগারগুলোর ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন । সোমবার (৬ এপ্রিল) অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে ডিরেক্টর জেনারেল অফ প্রিজন্স-কে এই সংক্রান্ত একটি বিশদ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, এখন থেকে আগামী ৬ মে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনও বন্দিকে প্যারোল (Parole), ফারলো (Furlough) বা অন্য কোনও ধরনের সাময়িক মুক্তি দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরি মানবিক কারণে ছুটির প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) লিখিত অনুমতি নিয়ে তবেই বন্দিকে ছাড়া যেতে পারে।

জেলে বসে কেউ যাতে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে বা ভোটের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য সিনিয়র জেল আধিকারিকদের নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ চেক’ বা ঝটিকা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, চার্জার, নগদ টাকা, মদ বা মাদক যাতে জেলের ভেতরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে। ভোটের প্রচার চলাকালীন এবং ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এই তল্লাশি আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে।

জেলের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি অকেজো রাখতে সমস্ত সিগন্যাল জ্যামার ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জ্যামারগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা প্রতিদিন পরীক্ষা করে লগবই মেইনটেইন করতে হবে। যদি কোনও জ্যামারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তবে তা তৎক্ষণাৎ মেরামত করে জেলা শাসককে জানাতে হবে।

হাই-রিস্ক বা বিপজ্জনক বন্দিদের আলাদা রাখা (Segregation) এবং জেলের দর্শকদের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সাথে সমন্বয় রেখে চলতে হবে। কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই তা দ্রুত কমিশনকে জানাতে হবে।
সংশোধনাগারগুলোতে এই নির্দেশ ঠিকমতো পালন হচ্ছে কি না, তা জানতে সপ্তাহে দু’বার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কতবার তল্লাশি হল বা কী কী নিষিদ্ধ জিনিস উদ্ধার হলো, তার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে কমিশনকে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলপ্রকাশ হবে ৪ মে। এই গোটা সময় জুড়ে জেলগুলোতে নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন । নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।




