বাংলায় ৬০০ কোটির বিনিয়োগ, বৃহত্তম দই কারখানা গড়ছে আমূল
deshersamay
বাংলার দুধ শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের নতুন জোয়ার আসতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে চলেছে ভারতের আইকনিক ডেয়ারি ব্র্যান্ড ‘আমূল’। ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’ (BGBS) ২০২৫-এর মঞ্চেই এই বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় বলে আমূলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন লিমিটেড’ (GCMMF) জানিয়েছে।
কলকাতা সংলগ্ন হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে এই অত্যাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড ডেয়ারি প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হচ্ছে। আনন্দ-এর ‘কায়রা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেড’ দু’টি পর্যায়ে এটি তৈরি করছে। পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিয়েন মেহতা (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, GCMMF) জানিয়েছেন, “আমরা কলকাতায় একটি প্ল্যান্ট তৈরি করছি। এই নতুন কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০ লক্ষ কেজি উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্ট থাকবে।” এর পাশাপাশি কারখানাটিতে দৈনিক ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের করার পরিকাঠামোও রাখা হচ্ছে।
বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টি দই কিংবা রান্নায় টক দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলাগুলিতে দইয়ের এই বিপুল চাহিদাকেই মূলত পাখির চোখ করেছে এই সমবায় সংস্থাটি। স্থানীয় বাজারের এই আকাশছোঁয়া চাহিদাকে মেটানোর পাশাপাশি বাংলায় নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে চাইছে তারা।
কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের ‘হোয়াইট রেভোলিউশন ২.০’ বা দ্বিতীয় শ্বেত বিপ্লবের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাংলার এই নতুন প্লান্টটি কাজ করবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আমূলের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৫৯ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা।
ইন্টারন্যাশন্যাল ফার্ম কম্প্যারিসন নেটওয়ার্ক (IFCN)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, দুধ প্রক্রিয়াকরণের নিরিখে বিশ্বব্যাপী প্রথম ২০টি ডেয়ারি সংস্থার মধ্যে আমূলের স্থান এখন অষ্টম। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানি করার পাশাপাশি সম্প্রতি আমেরিকার বাজারেও পা রেখেছে ভারতের এই ‘টেস্ট অফ ইন্ডিয়া’। এবার কলকাতার বুকে বিশ্বের বৃহত্তম দইয়ের কারখানা গড়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলার শিল্পায়নে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে।
