ফের নয়া রেকর্ড শীতের , বঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার ‘খেলা’ কতদিন চলবে? সবচেয়ে ঠান্ডা কোথায়?

0
28
হীয়া রায়, দেশের সময়

গত বছরের শেষ দিন ছিল চলতি মরশুমে শহরের সবচেয়ে শীতল দিন। সেই রেকর্ড ভেঙে নয়া নজির শীতের। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে নেমে হলো চলতি মরশুমের শীতলতম দিন।

ভোরের দিকে কুয়াশা, বেলা বাড়তে মেঘলা আকাশ আর জোরালো উত্তুরে হাওয়ার পার্টনারশিপে শীতের ইনিংস ক্রমশই জোরালো হচ্ছে বঙ্গদেশে। 

উত্তুরে হাওয়ার দাপটে রাজ্যজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। রবিবার সকাল থেকে কার্যত ঠকঠক করে কাঁপছে শহর কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার দাপটে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। রবিবার শহরের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি থাকলে রবিবার তা একলাফে কমেছে প্রায় ৪ ডিগ্রি।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানা হয়েছে, আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই শীতের প্রকোপ বজায় থাকবে। আরও খানিকটা নামতে পারে তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের পূর্বাভাসও জারি করেছে হাওয়া অফিস।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে সকালের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে। বেলা বাড়বে কুয়াশা কিছুটা কমলেও রোদ ঝলমলে আকাশ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। দিনের বেশিরভাগ সময়ই শীত অনুভূত হবে, সঙ্গে উত্তুরে হাওয়া বইবে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে শীত অনুভূত হলেও ৯টি জেলায় ঝোড়ো ব্যাটিং চলবে। এই তালিকায় উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলা। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নামতে পারে এই জেলাগুলিতে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে তারপরের তিন থেকে চার দিনে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বঙ্গোপসাগরে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়ছে না বঙ্গে।

সোমবার সকালে শহর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সল্টলেক-বিধাননগর চত্বরে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নদিয়ার কল্যাণী, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর চত্বরে ভোরের দিকে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বাড়ে তাপমাত্রার পারদ।

বাংলায় শীতের এই জোরালো ইনিংসের নেপথ্যে কী?
উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় শুষ্ক, শীতল বাতাসের কারণেই ক্রমশ নামছে বাংলার তাপমাত্রার পারদ। গত কয়েকদিনের পারদ পতন চোখে পড়ার মতো। বুধবার রাতে তাপমাত্রা ছিল ১১.৬ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ১৩.১, শুক্রবার ১৪.২, শনিবার ১৫.২, রবিবার ১২.৫ এবং সোমবার তা নেমে আসে ১০.২ ডিগ্রিতে। মাত্র ৭২ ঘণ্টায় কলকাতায় রাতের পারদ কমেছে প্রায় ৫ ডিগ্রি।

দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা-সহ রাজ্যের ৮টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা করেছে আবহাওয়া দপ্তর। হিমাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১.৩ ডিগ্রিতে।

পূর্বাভাস আগেই ছিল যে, এই মরশুমে তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকছে উত্তরবঙ্গে। শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে শীতল হাওয়ার যুগলবন্দিতে সেই পূর্বাভাসই সত্যি হতে পারে। তুষারপাত হতে পারে মানেভঞ্জন, সান্দাকফু, ঘুম-সহ রাজ্যের উঁচু পার্বত্য এলাকায়। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়াও মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি সাগরদ্বীপ, দিঘা ও ডায়মন্ড হারবার সহ উপকূল এলাকায় কুয়াশার দাপট বাড়বে।

এই নিয়ে টানা ২১ দিন স্বাভাবিকের নীচে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অন্য দিকে গত শনিবার পর্যন্ত টানা ১০ দিন স্বাভাবিকের নীচে থাকার পরে রবিবার তা সামান্য বেড়ে স্বাভাবিকের উপরে ওঠে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সোমবার ফের তাপমাত্রা কমে স্বাভাবিকের তলায় নেমে আসে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

অন্য দিকে, শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডেও প্রবল ঠান্ডা থাকবে। ওডিশা, দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশে অতি ঘন কুয়াশার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী কয়েকদিন এভাবেই শীতের দাপট বজায় থাকবে।

Previous articleবাংলাদেশে হিন্দু বিধবাকে গাছে বেঁধে গণধর্ষণ! কেটে নেওয়া হলো চুলও, শোরগোল
Next articleঅমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস, বিজেপিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিন: বীরভূমের মঞ্চ থেকে অভিষেক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here