Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ঝাড়খণ্ডে ধরাশায়ী বিজেপি, সরকার গড়ার পথে এগিয়ে কংগ্রেস-জেএমএম

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। হলও তাই। ঝাড়খণ্ডে সরকার ধরে রাখতে পারল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির প্রথম সারির নেতারা লাগাতার প্রচারে গিয়েছিলেন বিহার ভেঙে তৈরি হওয়া এই ছোট্ট রাজ্যের প্রচারে। কিন্তু কংগ্রেস-ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জোটের কাছে দাঁড়াতেই পারল গেরুয়া শিবির।

সম্পূর্ণ ফলালফল বেরনো এখনও বাকি। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বিজেপি সরকার গড়তে পারছে না। এক্ষুণি এক্ষুণি এই ভরাডুবির ব্যাখ্যা বিজেপি নেতারা না দিলেও, রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।

অনেকের মতে, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির হোঁচট খাওয়ার অন্যতম কারণ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। ৮১ আসনের রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় আদিবাসীরা একটা বড় কারণ। সেই সমস্ত অঞ্চলে অনুন্নয়নও একটা বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই মুহূর্তে দেশ উত্তাল নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তাই এই ছোট রাজ্যের ভোটও সর্বভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ঝাড়খণ্ড ভোটে এনআরসি বা নাগরিকত্ব আইন কতটা প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বিরোধীরা এই ইস্যুকে যে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।

ঝাড়খণ্ডের বিদায়ী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রঘুবর দাস। রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যে অআদিবাসী একজনকে মুখ করে ভোটে লড়া বিজেপির কাল হয়ে দাঁড়াল। এর আগে অর্জুন মুণ্ডা বসেছিলেন ঝাড়খণ্ডের কুর্সিতে। কিন্তু একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বদলে মুখ করা হয় রঘুবর দাসকে। কিন্তু অনেকের মতে, অর্জুন মুণ্ডা যতটা দাপুটে নেতা ছিলেন, সেই তুলনায় রঘুবর দাস অনেকটাই দুর্বল।

গত অক্টোবরে মহারাষ্ট্রে ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপি। হরিয়ানাতেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি মনোহরলাল খট্টররা। অনেকে আবার গত একবছরের সময়কালকেও টেনে আনছেন। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৮-র ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে রাজ্যে হারা শুরু হয়েছিল বিজেপির, গতবছর মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, রাজস্থানে হেরেছিল বিজেপি। এবারও সেই ধারা অব্যাহত রইল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ঝাড়খণ্ডের ভোট আরও একবার প্রমাণ করে দিল, রাজ্যের ভোটে মোদীর মুখ দিয়ে যেমন কাজ হচ্ছে না তেমন বিজেপির স্থানীয় নেতারাও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারছেন না। বরং কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সে দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে।

অথচ লোকসভা ভোটে এই ঝাড়খণ্ডেই ১৪ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১১টি জিতে নিয়েছিল বিজেপি। তাদের শরিক দল আজসু জিতেছিল ১টি আসনে। যেমন হরিয়ানাতেও লোকসভা ভোটে ক্লিন সুইপ করার পর বিধানসভা ভোটে ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপি। ঝাড়খণ্ডেও তাই হল। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির জোটের মধ্যেও ফাটল ধরে গিয়েছিল। আজসু এবং রামবিলাস পাসোয়ানের দল জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার প্রভাবও পড়েছে বলে অনেকের মত।

পর্যবেক্ষকদের আরও বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড রাজ্য তৈরি হওয়ার পর থেকে অনেক ভাঙা-গড়া হয়েছে। সরকার গড়েছে আবার ভেঙেও গিয়েছে। স্থিতাবস্থা ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালে তৈরি হওয়া সরকার টানা পাঁচবছর একই ভাবে চলেছে। সেদিক থেকে এবার বিজেপির পক্ষে অনেক রসদ ছিল। কিন্তু সেসব কিছুই কাজ করল না। আরও একটি রাজ্যের মসনদ হারাতে হল গেরুয়া শিবিরকে

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন