

বনগাঁ: ৫ জানুয়ারি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। কর্মব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেই শুরু হল আরও এক নতুন বছরের সূচনা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় থাকলেও, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর টান বরাবরের। কাজের ফাঁকে গান গাওয়া, ছবি আঁকা যেমন তাঁর নিত্য অভ্যাস, তেমনই নিয়মিত খোঁজ রাখেন শহর থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষেরও। এই বিশেষ দিনে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন তাঁকে তাঁর অনুরাগীরা।

তাঁর জন্মদিনে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “অনেক অনেক ভালবাসা। দিদি আমাদের রক্ষক। “ উন্নয়নের মধ্যে সারা বাংলার মানুষকে হাঁটতে শিখিয়েছেন। সেই মায়ের আজ ৭১ তম জন্মদিন পালনের মধ্যে দিয়ে বনগাঁর মানুষের সার্বিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে নিজেকে আরও বেশি সক্রিয় রাখতে চাই।
বনগাঁর নতুন পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার বলেন , বাংলার মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সকলের দিদি । আমার দিদিকে অনেক দিন আগেই হারিয়েছি কিন্তু আজ মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করে মনে হল নিজের দিদির জন্মদিন পালন করলাম । এ এক অন্য অুনভূতি ।

প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য জানান, মুখ্যমন্ত্রীর যাপন তাঁকে প্রেরণা দেয়। এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। তিনি বলেন, “দিদির অদম্য জীবনীশক্তি দেখে আমি অনুপ্রাণিত। এই বয়সেও উনি যেভাবে কাজ করে চলেছেন, তা শেখার মতো। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও উনি মানুষ হিসাবে যেমন ছিলেন, আজও সেরকমই আছেন। উনি আমাদের মাটির কাছাকাছি থাকতে শেখান। দিদির কাজ দেখে নতুন ভাবে মানুষের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই ” ।

রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে যতই পার্থক্য থাকুক না কেন, একে অপরের প্রতি সৌজন্য দেখাতে কখনও ভোলেন না নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় মমতার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা প্রার্থনা করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মোদী।

প্রতি বছরই এই দিনে সৌজন্যবশত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

https://x.com/i/status/2008014540689244427

খাতায়-কলমে ১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি জন্মদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই হিসেবে ২০২৬ সাল অর্থাৎ এবছর তিনি পা রাখলেন একাত্তরে। এই দিনটি ঘিরে প্রতি বছর দলের নেতা-কর্মীদের উৎসাহ থাকে তুঙ্গে। শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায় কালীঘাটের বাড়িতে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন গঙ্গাসাগরে।
যদিও নিজের ‘একান্তে’ বইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ৫ জানুয়ারি নয়, মায়ের কথা অনুযায়ী, তাঁর জন্ম হয়েছিল দুর্গাষ্টমীতে। বইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘মা’র কথানুযায়ী দুর্গাপুজার মহাষ্টমীর দিন সব্ধিপুজোর সময় আমার জন্ম। তিনদিন আগে থেকে নাকি শুরু হয়েছিল একটানা প্রবল বৃষ্টি। আমি চোখ খোলার পরই নাকি বৃষ্টি থেমে যায়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি আমার বেশির ভাগ কর্মসূচিতেই অন্য অনেকের সঙ্গে বৃষ্টিও থাকে আমার সঙ্গী। এখন তো ধরেই নিই যে একফোঁটা হলেও বৃষ্টি পড়বেই।’



