Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

আজ দলের বৈঠকে দিদি, রয়েছে সংগঠনে রদবদলের সম্ভাবনাও, নতুন পদও তৈরি হতে পারে সে দিকে তাকিয়ে দল

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ একুশে বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে আজ বৃহ:স্পতিবার সংগঠনে বড় রকমের রদবদল করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে তো উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় সভাপতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে রদবদল হতে পারে রাজ্য স্তরের সংগঠনেও। আবার তা করতে গিয়ে জেলা ও রাজ্য সংগঠনে নতুন পদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গত মঙ্গলবার অর্থাৎ দলের শহিদ সমাবেশের বক্তৃতাতেই দিদি জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সমস্ত জেলা সভাপতি ও পর্যবেক্ষকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করবেন তিনি। বক্তৃতায় তাঁর আরও একটি কথা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, “আমি চিরদিনই থাকব না। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীদের আমি তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই।…আমার ছাত্র যৌবন এগিয়ে আসুন। স্বপ্নের ভোর নিয়ে আসুন।” অনেকের মতে, দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সাংগঠনিক দায়িত্বে তুলে আনার ব্যাপারেই হয়তো ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কী কী বদল হওয়ার সম্ভাবনা সংগঠনে?

এ ক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভাল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ধরনের বদল ঘটাবেন তা আগে থেকে দলের উপরের সারির অনেক নেতাই জানতে পারেন না। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিক্ষিপ্ত ভাবে তিনি কিছু নেতার সঙ্গে কথা বলেন। তা থেকে একটা ধারণা তৈরি করা যায় মাত্র।

তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা সভাপতি বদল করা হতে পারে। লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে ভরাডুবি হয়েছে দলের। তার পর সংগঠনের দুর্বলতা শুধরানোর চেষ্টা যে হয়নি তা নয়। কিন্তু তা কার্যকরী হয়নি। পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাও সেখানে আশানুরূপ নয় বলেই রাজ্য নেতৃত্বের মত। ফলে কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহর মতো জেলায় সভাপতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। একই ভাবে পশ্চিমাঞ্চল তথা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামেও লোকসভা ভোটে বিপর্যয় হয়েছে তৃণমূলের। জেলা সভাপতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেও।

ঘটনা হল, বর্তমানে বহু জেলা সভাপতিই আবার মন্ত্রিসভার সদস্য। অনেক দিন ধরে দলের মধ্যে একটা আলোচনা রয়েছে যে, মন্ত্রিসভা ও সংগঠন দু’জায়গাতেই বড় দায়িত্ব থাকার ফলে অনেকে পেরে উঠছেন না। এই পরিস্থিতিতে হতেই পারে যে কারও কারও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব কমিয়ে তাঁকে পূর্ণ সময় সংগঠনের কাজ করতে বলা হবে।

তবে কাউকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরালে একেবারে যে বাদের খাতায় দেওয়া হবে তা হয়তো নাও হতে পারে। বিধানসভা ভোট আসছে, তাই কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিসর কম। তাই জেলা সভাপতি পদ থেকে সরালেও জেলায় বা রাজ্যে কোনও আলঙ্কারিক পদ দিয়ে রাখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জেলা সংগঠনে ‘চেয়ারম্যান’ গোছের কোনও পদ তৈরি করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বড় রকমের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে দলের ছাত্র যুব সংগঠনেও। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ যে একটি অকর্মণ্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে দলের অনেকেই এক মত। তাঁদের মতে, নেতৃত্বের অভাবের কারণেই এ রকম হয়েছে। তা ছাড়া ছাত্র পরিষদের পর্যবেক্ষক হিসাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বস্তুত আজ রদবদলের স্বরূপ কী হবে তা নিয়ে দলের মধ্যে জল্পনা তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে জল্পনা রয়েছে মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েও। একুশের ভার্চুয়াল মঞ্চে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী থাকলেও পার্থবাবু ছিলেন না। আবার আজকের বৈঠকের আগে গতকাল বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীকে নিয়ে দিদি বৈঠকে বসেন বলেই খবর। সেখানেও পার্থবাবুকে ডাকা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনে পার্থবাবুর গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য সংগঠনে কোনও তরুণ নেতাকে তুলে আনা হবে কিনা তা নিয়েও গত ৪৮ ঘন্টা ধরে কৌতূহল ও আলোচনা রয়েছে দলের মধ্যে।

শাসক দলের এক নেতা বলেন, তৃণমূলে এখন অন্যতম সমস্যা হল, জেলায় জেলায় মূল সংগঠন ও যুব সংগঠনের নেতৃত্বের মধ্যে লড়াই। লোকসভা ভোটের আগে সেই টানাপোড়েন বন্ধ হওয়া উচিত। সাংগঠনিক রদবদলের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই সেটা মাথায় রাখবেন দিদি।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন