Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

অপচয়,দুর্নীতি করা যাবে না,এটা রাজনীতি করার সময় নয়, বিদ্যুৎ ফেরাতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি’‌ কাকদ্বীপে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে হেলিকপ্টারে উমফানে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ফের গেলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুর্গত এলাকায়। কাকদ্বীপে সারলেন প্রশাসনিক বৈঠক। সেই বৈঠক থেকেই প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কড়া নির্দেশ– কোনও রকম অপচয় করা যাবে না। যে কাজটা আগে করা দরকার সেটাই এখন করতে হবে। একই সঙ্গে সরাসরি বলে দিলেন, কোনও রকম দুর্নীতি তিনি বরদাস্ত করবেন না। সামাজিক প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তার কাছে যাবে। কোনও পঞ্চায়েত বা কারও হাতে টাকা দেওয়া হবে না।

এদিন বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পয়সা আমাদের একদম নেই। একে কোভিড, তার উপরে এই ঝড়ের তাণ্ডব।” এই পরিস্থিতিতে কোনও রকম অপচয় করা যাবে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমার হাতে যদি ১০০ কোটি টাকা থাকে তবে আমি একটা রাস্তা বানিয়ে তা খরচ করব না। সেই টাকা দিয়ে ৫০টা রাস্তা তৈরি করব।” একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সামনেই বর্ষাকাল। সুতরাং, রাস্তা এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে বর্ষার সময়ে তা আবার ভেঙে না যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেচের কাজও এখনই শুরু করতে হবে। তবে এখনই বেশি খরচ করলে চলবে না। একের পর এক ধাক্কায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। এখন পয়সা খুবই ইমপর্টেন্ট। যেই রাস্তাটা জরুরি এখন সেটাই ঠিক করতে হবে পিডব্লুডিকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে বর্ষায় যেন আবার ভেঙে না যায়।”

তবে রাস্তা তৈরির আগে ঝড়ের তাণ্ডবে যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন তাঁদের বাড়ি তৈরির দিকে নজর দিতে তিনি নির্দেশ দেন প্রশাসনকে। মমতা বলেন, শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই ১০ লাখ বাড়ি ভেঙেছে। দ্রুততার সঙ্গে সেই বাড়ি নির্মাণের কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে একশো দিনের প্রকল্পের শ্রমিকদের কাজে লাগানো যেতে পারে। মমতা বলেন, দরকার হলে নতুন জব কার্ড দিতে হবে। লোকাল ছেলেমেয়েদের কাজে লাগানো হোক। গাছ কাটা, পুকুর পরিষ্কার, চাষের জমি পরিষ্কার এই সবকে একশো দিনের কাজের আওতায় আনতে হবে। এমনকী বিদ্যুৎ বিভাগকেও তিনি বলেন, ইলেকট্রিকের কাজ ছাড়া পোল বসানো, গর্ত খোঁড়া ইত্যাদি কাজের জন্য স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কাজে লাগাতে হবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে বলেন, রাজ্যের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য এক লাখ কোটি টাকা দরকার। কেন্দ্র দিয়েছে এক হাজার কোটি। তবে পুনর্গঠনের জন্য ঠিক কত টাকা দরকার, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ কত তার হিসেব করার জন্য রাজ্য সরকার সমীক্ষা চালাবে। মমতা বলেন, পঞ্চায়েত থেকে সেচ, কৃষি সব দফতর মিলে যৌথভাবে সমীক্ষা চালাবে। তাঁর দাবি, রাজ্যে মোট ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এটা জাতীয় বিপর্যয়ের থেকেও বড় ক্ষতি। মমতা বলেন, “তিন মাস কোনও রোজগার নেই সরকারের। এক টাকাও পাইনি করোনার জন্য। কেন্দ্র থেকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এক লাখ কোটি টাকা লাগবে। যতটা পারব করব।”

এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে সব দফতরের প্রতিনিধিরাই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে মমতা বলেন, একসঙ্গে ত্রাণ দেওয়া এবং পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি রান্নাও করব, বইও পড়ব। এই ভাবে কাজ করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর আরও নির্দেশ, যেখানে যেখানে দরকার পড়বে সেখানে একশো দিনের কাজের শ্রমিক ছাড়াও সেলফ হেল্প গ্রুপকে কাজে লাগাতে হবে। যে সব এলাকায় রেশন দোকান নষ্ট হয়ে গিয়েছে, সেখানে সেলফ হেল্প গ্রুপের সদস্যরাই বাড়ি বাড়ি রেশনের চাল, ডাল পৌঁছে দেবে।

এদিনের বৈঠক থেকে এই সময়ে স্বাস্থ্য দফতরকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মমতা। বলেন, সাধারণ সর্দি, জ্বর থেকে করোনা কিংবা সাপে কামড়ানো রোগী সব দিকেই নজর রাখতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মমতা বলেন, পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে আপাতত বাড়ি বাড়ি পাউচ প্যাকেটে করে জল দিতে হবে। মৎসজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর একগুচ্ছ নির্দেশের সঙ্গে বন দফতরকে বলেন এখনই সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো শুরু করতে হবে।

এই সব ত্রাণকার্যের সঙ্গে সরকারের যেসব সামাজিক প্রকল্প চলছে তাও‌ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন মমতা। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “সামাজিক প্রকল্পের টাকা ডাইরেক্ট উপভোক্তার কাছে যাবে। কেউ যেন কোনও অভিযোগ না করতে পারে। কোনও পঞ্চায়েত বা কারও হাতে টাকা দেওয়া হবে না।” রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “জয় বাংলা জয় জহর প্রকল্পের এক পয়সা যেন নয় ছয় না হয়। তাহলে আমি ছেড়ে কথা বলবো না। সরাসরি প্রাপকদের হাতে টাকা দেওয়া হবে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির কাউকে নয়। টাকা গরীব মানুষের হাতে দিতে হবে।”

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বারবারই বলেন, এমন দুর্যোগ কোনও দিনও আসেনি রাজ্যে। একই সঙ্গে করোনা, লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দিতে হচ্ছে।

রাজ্য সরকার আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে বিদ্যুৎ ফেরাতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছে। শনিবার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘‌এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতে ফেরাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আয়লাও দেখেছি, কিন্তু এমন বিপর্যয় কখনও দেখিনি। বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়া এখন বড় দায়িত্ব। দ্রুত বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা বিদ্যুৎ ফেরাতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। এটা রাজনীতি করার সময় নয়। বিদ্যুৎ ফেরানোর জ্যন আমরা সিইএসসি–র সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করব।’‌ 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যে ছয় কোটি মানুষ এবং শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই ৭৩ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে অ্যান্টি–ভেনম ওষুধ এবং ওআরএস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা এবং সুন্দরবন অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ ছাড়া ঝড়ে উপড়ে পড়া অন্যান্য গাছ লাগানোর জন্য বন দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন