ভারত-চিন সম্পর্কে বড় বদল , সিন্ধু চুক্তি কার্যকর করতে ভারতকে অনুরোধ ইসলামাবাদের

0
425

ভারত ও চিন সম্ভবত আগামী মাস থেকেই সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করতে চলেছে। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার একথা জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত সরকার এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো-সহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে চিনে দ্রুত ফ্লাইট চালুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকেই ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

গালওয়ান সংঘর্ষের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন
২০২০ সালের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘর্ষ, যার ফলে সম্পর্ক গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে। সংঘর্ষের পর উভয় দেশ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয় এবং একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক বৈঠকে জড়িয়ে পড়ে। যদিও কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, অনেক অংশ এখনও সমাধানহীন রয়ে গেছে।

তবে গত বছর একটি বড় অগ্রগতি ঘটে যখন লাদাখের ডেপসাং ও ডেমচক প্লেইন এলাকা থেকে উভয় পক্ষ সেনা প্রত্যাহার করে। এই প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় সেনা, তাঁবু ও অস্থায়ী কাঠামো সরানো হয়, যা শেষ হয় ৩০ অক্টোবর।
অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগেও প্রভাব
এই সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগেও। ভারতে চিনা বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা, আমদানিতে কড়া নজরদারি, এবং মহামারির সময়ে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ রাখা। সব মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে কিছু ছোট ছোট ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসেই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে অংশ নিতে চিনের তিয়ানজিন সফরে যাচ্ছেন। এটি ২০১৯ সালের পর চিনে তাঁর প্রথম সফর। চিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা আশা করে এই সম্মেলন হবে “ঐক্য, বন্ধুত্ব ও ফলপ্রসূতার একটি মঞ্চ”।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আগে চিনে SCO সংক্রান্ত একাধিক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সফর করেছে। যার মধ্যে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হলে, তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

যদি ভারত চিনের মধ্যে ফের একবার ভাল সম্পর্ক তৈরি হয় তাহলে সেখান থেকে সবথেকে বেশি চাপে পড়ে যাবে পাকিস্তান। তারা চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তবে এবার যদি ভারত চিনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতি হয় তাহলে সেখান থেকে পাকিস্তানের রাতের ঘুম উড়বে সেটা বলাই বাহুল্য।

সিন্ধু চুক্তি কার্যকর করতে ভারতকে অনুরোধ করল ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের  শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের লাগাতার যুদ্ধ ও পারমাণবিক হামলার হুমকির মাঝেই ইসলামাবাদ  ভারতের কাছে ফের সিন্ধু জলচুক্তি  পুনর্বহালের দাবি তুলেছে।


ভারত মে মাস থেকে এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রেখেছে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার  পর। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, তারা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ৮ অগস্টে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দেওয়া ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছে।

পাকিস্তানের বক্তব্য
ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত পশ্চিম দিকের তিন নদী চেনাব, ঝিলম ও সিন্ধু নিয়ে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ভারতকে ওই নদীগুলির জল পাকিস্তানের ‘অবাধ ব্যবহারের’ জন্য রাখতে হবে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতকে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত মেনে কাজ করতে হবে।

এদিকে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই সালিশি প্রক্রিয়া স্বীকৃতি দেয় না। গত ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলা যার জন্য তাঁরা পাকিস্তানকে দায়ী করেছে, সেই প্রেক্ষিতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রাক্তন পাকিস্তানি মন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, প্রয়োজনে ছয়টি নদী ফেরত পেতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তাঁরা। প্রসঙ্গত, একদিন আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সরাসরি পারমাণবিক হামলার হুমকি দেন। কিন্তু ভারত কোনও কিছুতেই কোনও পাত্তা দেয়নি।

Previous articleতালিকা বিতর্কে বনগাঁর বিজেপি বিধায়ক, ২০০২ ভোটার লিস্টে অশোক কীর্তনীয়ার নাম , নেই বাবা-মা
Next articleভোটার তালিকা বিতর্কে অশোকের পর নাম জড়াল বনগাঁ দক্ষিণের পদ্ম বিধায়ক স্বপন মজুমদারের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here