(বিশেষ প্রতিবেদন)
দেশের সময়ঃ-রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এ দেশের ভোট সর্বস্ব রাজনীতিটা কতটা ভাল বোঝেন তা আবার প্রমাণ হয়ে গেল,তাঁর কৃষকবন্ধু ও সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে।বলাই বাহুল্য তাঁর এই ঘোষণা আগামী লোকসভায় এ রাজ্যের শাসক দলকে ভোট প্রচারে অনেকটা এগিয়ে দিল।গোটা দেশে যখন কৃষকদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে কৃষকরা সরব হতে শুরু করেছেন,যখন দেশের কৃষক সমাজ একত্রিত হয়ে লংমার্চ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানিয়ে দিয়েছে,যখন মধ্যপ্রদেশ,রাজস্থান,ছত্তিশগড়ে মূলত কৃষক অসন্তোষের কারণেই বিজেপি সরকারের পতন হয়েছে,তখন এ রাজ্যে মমতার এই ঘোষণা যথেষ্ট অর্থবহ বলেই মনে করা যায়।গোটা দেশ জুড়ে কৃষকদের এই সংগঠিত প্রতিবাদের জন্য বামপন্থীদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই,লাল ঝান্ডার তলাতেই কৃষকদের প্রতিবাদের হুঙ্কার তুলতে দেথা গেছে।কৃষক বিদ্রোহের কারণে যে রাজ্যগুলি বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে,সেখানে বামেদের তেমন সংগঠন না থাকায় তারা ভোটে হয়তো তেমন ফায়দা তুলতে পারে নি,সব জাযগায় প্রার্থী দেয় নি তারা,তবে যে খানে যেখানে প্রার্থী দিতে পেরেছে সেখানে চোখে পড়ার মত ভোট পেয়েছে বামেরা।বেশ কয়েকটি রাজ্যের সাম্প্রতিক এই ফল দেখে বুদ্ধিমতি তৃণমূল সুপ্রিমোর বুঝতে অসুবিধা হয় নি,কৃষক দরদী হিসেবে আবার সামনে চলে আসছে বামপন্থীরা।এ রাজ্যে সেই বার্তা ছড়ালে যে তাঁর বিপদ,সেটা আঁচ করেই একেবারে ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষকবন্ধু প্রকল্প ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।এই ঘোষণা অনুযায়ী ১৮-৬০ বছরের মধ্যে কোন কৃষকের মৃত্যু হলে সরকার এককালীন ২লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে।এ ছাড়াও প্রত্যেক কৃষককে প্রতি একর জমি চাষের জন্য বছরে দু-দফায় ৫হাজার টাকা অনুদান দেবে সরকার।কোন সন্দেহ নেই এই প্রকল্প কৃষকদের সাহায্য করতে রাজ্য সরকারের এক চমপ্রদ সিদ্ধান্ত।এ রাজ্যের কৃষকদের অনিশ্চিত জীবন-যাপনকে সহায়তা দিতে এই প্রকল্প দারুন ভূমিকা নেবে।একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা এ বছর জানুয়ারি থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে।অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে এই ডিএ দেওয়ার ঘোষণা গত জুন মাসেই করা হয়ে গেছিল,তখনই বলা হয়েছিল কার্যকরী হবে জানুয়ারি থেকে।সেদিক থেকে এটা নতুন নয়,তবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এখানেও মুখ্যমন্ত্রীর দারুন বুদ্ধি কাজ করছে।জানুয়ারিতে যেটা দেওয়া হবে তা অত আগে কেন ঘোষণা করা হল,কারণ একটাই মমতা জানেন মানুষের স্মৃতী দুর্বল,তাই ঠিক ভোটের আগে সেটা মনে করিয়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়,আর জুন মাসে প্রাথমিক ঘোষণা করে,সরকারি কর্মীদের ক্ষোভের মাত্রায় লাগাম দিয়ে রেখেছিলেন তিনি।সাধারণ মানুষের নাড়ির খবর রাখতে পারেন বলেই তিনি সফল রাজনীতিক।কাকে কী ভাবে দমিয়ে রাখতে হয়,কোন চাল কখন কী ভাবে দিতে হয়,এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ে তা ভাল কেউ বোঝেন না।কৃষকবন্ধু প্রকল্প সত্যিই কৃষকদের কতটা বন্ধু হয়ে উঠতে পারবে,সেটা সময বলবে,তবে এই প্রকল্প য়ে এ রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে এই প্রকল্প যে মমতাকে অনেকটা এগিয়ে দিল তা নিশ্চিত করে বলে দেওয়া য়ায়।এ রাজ্য কৃষি নির্ভর,কৃষকদের কথা না ভাবলে কোন রাজনৈতিক দলই শেষ হাসি হাসতে পারবে না।বার বার তা প্রমাণ হয়ে গেছে।যে বামেরা একদিন ভূমি সংস্কার করে,ভূমিহীন কৃষকদের জমি বিলিয়ে এ রাজ্যে ক্ষমতার ভিতকে পোক্ত করেছিল,তারাই যখন শিল্প গড়ার তাড়ায় কৃষিজমি কৃষকদের কাজ থেকে জোর করে কেড়ে নিতে চাইলো,তখনই তাদের পতন ঘনিয়ে এসেছিল,চতুর রাজনীতিক মমতা জানেন কৃষকদের চটিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে না,তাই কৃষক অসন্তোষ চাপা দিতেই তাঁর কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ঘেষণা,কোন সন্দেহ নেই এই প্রকল্পের ঘোষণা আগামী লোকসভার ভোট প্রচারে তৃণমূলকে অনেকটা এগিয়ে দিল।মমতার কৃষক দরদের আন্তরিকতা নিয়ে যে কেউই প্রশ্ন তুলতে পারেন,কিন্তু ভোট কেন্দ্রীক রাজনীতিতে তাঁর কৌশল যে অব্যর্থ তা নিয়ে কোন প্রশ্ন চলে না।আগামী লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরুবার পর এ রাজ্যের সব বিরেধী রাজনৈতিক দলগুলো তা আবার টের পাবেন আশা করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.