

আইপ্যাকের অফিসে ইডি-র তল্লাশির ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ‘বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গন’-এ তৃণমূলের সমাজমাধ্যমের কর্মী, সমর্থকদের একটি সভা আয়োজিত হয়। সেখানেই অভিষেক বলেন, ‘ইডি তল্লাশি চালাতে নয়, তথ্য চুরি করতে এসেছিল।’ কেন তল্লাশি চালাতে নয়, তথ্য চুরি করতে এসেছিল, সে ব্যাপারে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।

এ দিনের অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সমাজমাধ্যমে প্রচারের কৌশল সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেন অভিষেক। বিরোধীদের অভিযোগকে কী ভাবে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করতে হবে সে ব্যাপারে নির্দেশ দেন। এর মাঝেই অভিষেকের বক্তৃতায় উঠে আসে আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির ঘটনার কথা।
আইপ্যাকে ইডি অভিযান নিয়ে বিজেপির প্রশ্ন ছিল, কয়লা কাণ্ডের তদন্তে হানা হলে তৃণমূল কেন ভয় পাচ্ছে? সোমবার অভিষেক এই প্রসঙ্গে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, আপত্তির কিছু নেই শুধু দুটি প্রশ্নের উত্তর চান তিনি। কী প্রশ্ন? এক, কয়লা পাচার তদন্তে শেষ তিন বছরে একটা সমনও ইস্যু করা হয়নি। তাহলে কেন ফের একটা ভোটের ঠিক আগেই এই অভিযান করা হল? আর দুই, আইপ্যাকের শুধু কলকাতার অফিসেই কেন অভিযান চালালো ইডি?

অভিষেকের কথায়, ”আইপ্যাকের তিনজন ডিরেক্টর । যদি আইপ্যাকের কাজের জন্য রেইড করার প্রয়োজন হয় তাহলে কেন শুধু কলকাতার ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি করা হল? কেন দিল্লি বা চেন্নাই-এর ডিরেক্টরের বাড়িতে রেইড করা হল না। আসলে ইডি রেইড করতে আসেনি, তথ্য চুরি করতে এসেছিল।” এই প্রসঙ্গে গত নির্বাচনের কথাও তোলেন তিনি। সকলকে মনে করান ‘পেগাসাস’ কাণ্ডের কথা। যদিও অভিষেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, আগেরবারও বিজেপি হেরেছিল, এবারও হারবে।

ইডি বলছে কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তেই এই তল্লাশি অভিযান করা হয়েছে। সেই অভিযান চলাকালীন আইপ্যাকের কর্ণধার এবং সংস্থার অফিসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া এবং একাধিক ফাইল বের করে আনা নিয়ে আপাতত রাজ্য-জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত মামলা হয়েছে। এই অবস্থায় অভিষেকের সাফ কথা – এই কাণ্ডে যদি আইপ্যাক যুক্ত হয় তাহলে কলকাতা ছাড়াও দেশের বাকি আইপ্যাকের অফিসে রেইড হওয়া উচিত। কিন্তু তেমনটা না হয়ে শুধু কলকাতায় হয়েছে। কেন, কী কারণ, সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা।

এর আগে আইপ্যাক-ইডি প্রসঙ্গে মুখ খুলে এসআইআরের কথা বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ”আইপ্যাক কেন এসআইআরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, কেন গরিব মানুষের সাহায্য, সহযোগিতা করছে, তার জন্য সেই সংস্থায় ইডিকে দিয়ে অভিযান করিয়েছে।” তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের জন্য ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করেছে আইপ্যাক। সাধারণ ভোটারদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য। এই কারণেই ইডি রেইড।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে নিশানায় নিয়ে তাঁর কটাক্ষ – সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ইডিকে দিয়ে হরণ করছে। তৃণমূল সাংসদ সাফ বলেন, এটাই বিজেপির ফর্মুলা।




