

শুক্রবার ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই একই জায়গা থেকে রবিবার বিকেলে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে পা বাড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও । আর তাঁর সেই মিছিলে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও দফতরে ইডির তল্লাশি, তার পর সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ দিনের প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির। যদিও এই কর্মসূচি ঘিরে শাসকদলের কটাক্ষ থামেনি।
মিছিল থেকে সংবাদমাধ্যমকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে ফিল্মস্টার নেই। রুদ্রনীল ঘোষ এখন রাজনীতিক। সে দিন সরকারের একটা শো হয়েছিল, আজকেরটা স্বাভাবিক প্রতিবাদ। ভবানীপুরে হারিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করার পরেই আমি থামব। যা পারে করে নিক। সবাই দেখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফাইল কেড়ে এনেছেন এবং তা সগর্বে বলেছেনও।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও তৃণমূলকে নিশানা করতে ছাড়েননি। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক। মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল ছিনতাই সেই কথাই প্রমাণ করল। রাজ্য সরকারের পুলিশ, তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে এই কাজ করেছেন তিনি। সারা দেশের মানুষ দেখছেন এবং হাসছেন। এই আচরণের প্রতিবাদেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যাদবপুর ৮বি থেকে রাসবিহারী পর্যন্ত মিছিল।”

তবে বিজেপির এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর মন্তব্য, “দাঁড় কাক ময়ূরের পালক পরলেই ময়ূর হয়ে যায় না। শুভেন্দু অধিকারীকেও আজীবন মমতাদির আলোয় আলোকিত থাকতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর থেকে মিছিল করেছিলেন বলেই আজ শুভেন্দুকেও সেখান থেকেই নকল করতে হচ্ছে। দিনের শেষে দাঁড় কাক কাকই থাকে।”
প্রসঙ্গত, এর আগের দিন শুক্রবার একই যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকেই মিছিল শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ দেব, সোহম-সহ বহু বিধায়ক ও নেতা, এমনকি টেলি-তারকারাও।

বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ হয় সেই মিছিল। মিছিল শুরুর আগে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আর এ রাজ্যের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে রাস্তাই আমাদের রাস্তা।” নেতাজির উদ্ধৃতি টেনে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরের মাটি লড়াইয়ের মাটি, উদ্বাস্তুদের মাটি।” রোববার দেখা গেল সেই মাটি থেকেই মা-মাটি-মানুষের সরকারকে সরিয়ে দিয়ে পরিবর্তনের ডাক দিলেন শুভেন্দু।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট ,রাজ্য রাজনীতিতে এখন রাস্তাই প্রধান মঞ্চ। দিল্লির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী , দু’জনেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ভরসা রাখছেন মিছিলের রাজনীতিতেই।




