বিদেশে বিয়ে নয়, সোনা কেনায় রাশ টানার পরামর্শ! ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি ফের শুরু করার দিকে জোর প্রধানমন্ত্রীর

0
2

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে আর্থিক সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে কোভিড-সময়ের কর্মপদ্ধতি পুনরায় চালুর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে বিশ্বজুড়ে চলা সঙ্কটের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফের বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইন কনফারেন্স এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মতো কাজের দিকে জোর দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। এই সঙ্গে এই পরি স্থিতিতে পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাসের সংযত ব্যবহার করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার জন্যও সবার কাছে আবেদন জানান তিনি। রবিবার হায়দরাবাদে তেলঙ্গানা রাজ্যের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই এই আবেদন জানান তিনি।

ফিরে আসুক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কালচার (Work From Home)
মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী কোভিড আমলের কর্মপদ্ধতি ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, যেখানে সম্ভব সেখানে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) ব্যবস্থা চালু হোক। অফিসে না গিয়ে অনলাইন কনফারেন্স বা ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে কাজ সারলে যেমন সময় বাঁচে, তেমনই জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমে (Reduce petrol diesel consumption)।

বিদেশি মুদ্রার অপচয় রুখতে মোদী দেশবাসীকে অনুরোধ করেন, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা বিদেশে গিয়ে বিলাসবহুল বিয়ের সংস্কৃতি ত্যাগ করতে। ভারতের টাকা যাতে ভারতের মধ্যেই থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই আবেদন। একইসঙ্গে সোনা আমদানির ফলে দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারে টান পড়ে, তাই বিনিয়োগের খাতিরে রাশি রাশি সোনা না কেনারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রোল, ডিজেল সাশ্রয় করার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার (Foreign Exchange Reserves) ধরে রাখতে সরকারি পরিবহণ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পেট্রোল-ডিজেল সাশ্রয়ে জোর
জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে মোদী একগুচ্ছ নিদান দিয়েছেন:
যেখানে সম্ভব সেখানে মেট্রো বা বাসের মতো সরকারি পরিবহণ ব্যবহার করা।
একই গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘কার-পুলিং’-এ জোর দেওয়া।

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে লরি বা ট্রাকের চেয়ে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
ইলেকট্রিক ভেহিকল বা বৈদ্যুতিন যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো।

হায়দরাবাদের সভা থেকে মোদী আরও বলেন, “দেশপ্রেম মানে কেবল সীমান্তে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা নয়। এই টালমাটাল সময়ে প্রতিদিনের জীবনে দায়িত্বশীল হওয়া এবং দেশের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করাও বড় মাপের দেশপ্রেম।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ব্যাঘাত ঘটছে, তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। আর এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি জনঅংশীদারিত্ব বা ‘জনভাগীদারি’ একান্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের মতে, আরব দুনিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই সেই আশঙ্কার কথা দেশবাসীকে জানিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেন। কেবল নীতি নির্ধারণ নয়, সাধারণ মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই আর্থিক সংকট থেকে ভারত রক্ষা পেতে পারে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

Previous articleপ্রত‍্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের পথপ্রদর্শক হতে চায় বনগাঁর ছয়ঘরিয়া রাখালদাস হাই স্কুলের ছাত্র শুভদীপ : দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here