
কলকাতা : মার্চের শেষ সপ্তাহে শুষ্ক গরমের দাপট মিলছিল। তাপপ্রবাহ বইতে পারে, এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের জোগান কম থাকার ফলেই পশ্চিম দিক থেকে শুকনো গরম বাতাস ঢুকছিল গাঙ্গেয় বঙ্গে। রবিবার থেকে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এ দিন সকালে কলকাতা লাগোয়া এলাকা-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশে অল্পবিস্তর মেঘ দেখা গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের খবর, গত শনিবার কলকাতার আপেক্ষিক আর্দ্রতা নেমে গিয়েছিল ২৬ শতাংশে। এ দিন ন্যূনতম আর্দ্রতা ছিল ৫৪ শতাংশ। তার ফলেই শুকনো গরমের অস্বস্তি কমেছে।

মার্চ মাসের শেষের দিকে তীব্র ব্যাটিং চালিয়েছে গরম। বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবে এখনও গ্রীষ্মকাল না এলেও, তেজ দেখিয়েছে রোদ। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ছুঁই ছুঁই, কোথাও পেরিয়ে গিয়েছিল ৪০ ডিগ্রি।

মার্চেই এই প্রবল দাবদাহ হলে, এপ্রিলে কী হবে অবস্থা? ভেবেই অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। তবে এপ্রিলের শুরুতে মোটামুটি স্বস্তি থাকবে। তেমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, এপ্রিলের প্রথম দিন শুষ্ক আবহাওয়া থাকলেও, বুধবার অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন থেকেই বদল আসতে পারে আবহাওয়ায়।

বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বুধবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুরে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝড়ের সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবারে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরে, বাঁকুড়ায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। শুক্রবার থেকে ভিজতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। সঙ্গে ৩০-৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টি সম্ভাবনা রবিবার পর্যন্ত। অন্যদিকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৩.৮ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৬.৬, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ ডিগ্রি বেশি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের খবর, এ দিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দমদম, ব্যারাকপুরের মতো মহানগর লাগোয়া এলাকাগুলিতেও তাপমাত্রা সে ভাবে বাড়েনি। বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছে।
গত দু’দিনের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় তাপমাত্রা কমলেও গরমের অস্বস্তি মালুম হয়েছে। পুরুলিয়ায় গরম এ দিমন অসহনীয় ছিল না। দুপুরে মেলেনি শুকনো গরম হাওয়া বা ‘লু’-এর দাপট। বীরভূমের শ্রীনিকেতনে এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে মেঘ থাকায় ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি মালুম হয়েছে। পথেঘাটে অনেকেই দরদরিয়ে ঘেমেছেন।

‘লু’-এর দাপট দেখা যায়নি পশ্চিম বর্ধমানের খনি-শিল্পাঞ্চলেও। ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছেপিঠে ঘোরাফেরা করেছে। তবে গরম হাওয়া রবিবার থেকেই সেখানে বন্ধ হয়েছে। তার বদলে মিলেছে ঘামের অস্বস্তি। পূর্ব বর্ধমানেও এ দিন আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল। এ দিকে, ইদের ছুটিতে অনেকেই ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ দিন ওই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রবল মাথাচাড়া না দিলেও গরমের অস্বস্তি ভালই টের পাওয়া গিয়েছে বলে জানান অনেকেই।

আবহবিদদের অনেকে বলছেন, এখনও আর্দ্রতার যা পরিমাণ তাতে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ, ওই জলীয় বাষ্পই আরও গরম হয়ে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে উঠে ঘনীভূত হয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে। আজ, মঙ্গলবার থেকে বাতাসে জলীয় বাষ্প আরও কিছুটা বাড়তে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ যত বাড়বে, ততই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো হবে।
